স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনের গলা ও কান থেকে অভিনব কায়দায় এবং সুকৌশলে স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত গাইনি ওয়ার্ডের সামনে এই দুঃসাহসিক প্রতারণা ও চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম রওশন আরা বেগম (৪৫)। তিনি যশোরের মণিরামপুর উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, রওশন আরা বেগম তাঁর এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে হাসপাতালে এসেছিলেন। বিকেল ৫টার দিকে তিনি হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার গাইনি ওয়ার্ডের বাইরের বারান্দায় একটি বেঞ্চে বসে ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় এক মধ্যবয়সী নারী এসে তাঁর পাশে বসেন এবং অত্যন্ত সুকৌশলে বিভিন্ন পারিবারিক কথাবার্তা বলে গভীর সখ্যতা গড়ে তোলেন।
কথাবার্তার একপর্যায়ে ওই অজ্ঞাত নারী রওশন আরার সরলতার সুযোগ নিয়ে অলৌকিক ক্ষমতা দেখানোর ভান করেন এবং কাগজে মোড়ানো একটি বিশেষ পাথর জোরপূর্বক তাঁর হাতে সুতো দিয়ে বেঁধে দেন। ভুক্তভোগীর দাবি, পাথরটি বাঁধার পর তিনি কিছুটা মোহগ্রস্ত বা অচেতনতার মতো বোধ করতে থাকেন। এই সুযোগে ওই চতুর নারী রওশন আরার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি দামী স্বর্ণের চেইন এবং কান থেকে চার আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল অত্যন্ত নিখুঁতভাবে খুলে নেন। গহনাগুলো পকেটস্থ করার পরপরই ওই ছদ্মবেশী নারী ভিড়ের মধ্যে মিশে দ্রুত হাসপাতাল চত্বর ছেড়ে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে রওশন আরার সম্বিৎ ফিরে এলে তিনি গলায় ও কানে হাত দিয়ে দেখতে পান তাঁর প্রায় বারো আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার গায়েব হয়ে গেছে। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা ছুটে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই প্রতারক নারীর একজন রোগী হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে বলে সে দাবি করেছিল, যা মূলত চুরির উদ্দেশ্যে করা একটি নিখুঁত ছক।
এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করেছেন।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সেবকেরা জানান, হাসপাতালে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সরলসোজা সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে একটি সংঘবদ্ধ নারী চোর ও অজ্ঞানপার্টি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে ওই প্রতারক নারীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


