বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু,কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগের অপূর্ব লীলাভূমি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ফের নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। ১৯৯৮ সালে কুয়াকাটাকে আনুষ্ঠানিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করার পর দিন দিন পর্যটক সমাগম বাড়লেও দীর্ঘ ২৫ বছরেও সৈকতের ভাঙনরোধে কোনো স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। ভাঙনের কারণে ইতিমধ্যে সৈকতের প্রায় আড়াই কিলোমিটার প্রস্থ এলাকা সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন পর্যটক ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সাল থেকেই কুয়াকাটা সৈকতে প্রথম ভাঙন শুরু হয়, যা ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের দিকে ভয়াবহ রূপ নেয়। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চলা এই ধারাবাহিক ভাঙনের করাল গ্রাসে ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগান, শাল বাগান, বিস্তীর্ণ ঝাউবন ও ইকোপার্কসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। চলতি বছরও নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় উত্তাল ঢেউয়ের তাণ্ডবে সৈকতের পশ্চিম পাশের মীরা বাড়ি এলাকার বেশ কিছু সুরক্ষামূলক ব্লক ধসে ও সরে গেছে। বর্তমানে ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে কুয়াকাটার ট্যুরিজম পার্ক, মসজিদ, মন্দির, ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেরিন ড্রাইভ সড়ক।
আপাতত ভাঙন রোধে সৈকতের জিরো পয়েন্টসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে বালুভর্তি জিও টিউব ফেলা হয়েছে। তবে এই অস্থায়ী ব্যবস্থা জোয়ারের তীব্র ঢেউ ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহ আলম জানান, কুয়াকাটা সৈকতের স্থায়ী রক্ষাবাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে ৭ শত ৫৯ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প তৈরি করে অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও অর্থ বরাদ্দ সম্পন্ন হলে দ্রুত স্থায়ী বাঁধের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত ও দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন কুয়াকাটার সচেতন নাগরিক সমাজ। ছবি সংগৃহীত।


