পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের জমকালো বিজ্ঞানমেলা

পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের জমকালো বিজ্ঞানমেলা

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞানের প্রতি গভীর অনুরাাগ, সৃজনশীল চিন্তা ও আধুনিক উদ্ভাবনী মানসিকতা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে যশোরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যতিক্রমধর্মী বিজ্ঞানমেলা।

আজ শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) বেলা ৩টা থেকে রাত পর্যন্ত যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবিত নানা বৈজ্ঞানিক প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর মডেল ও বাস্তবমুখী গবেষণা প্রদর্শন করে আমন্ত্রিত অতিথি, অভিভাবক ও সাধারণ দর্শনার্থীদের দারুণভাবে উৎসাহিত করে।

প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সালের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মুহাম্মদ আব্দুস ছালাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. সারাফাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, “বিশ্বের চলমান প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান শিক্ষায় দক্ষ করে তোলা জরুরি। শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধিৎসু মন ও উদ্ভাবনী মেধা বিকাশে পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই প্রশংসনীয় আয়োজন নতুন বিজ্ঞানী ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. মো. আব্দুল মতিন, উপ-সচিব (প্রশাসন ও সংস্থাপন) শেখ আমিনুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কামাল আহমেদ।

বক্তারা বলেন, বিজ্ঞানচর্চাকে শুধু বইয়ের পাতার তত্ত্বে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে গবেষণার পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া প্রয়োজন। এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

মেলায় ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট ফর ইনোভেশন’ (রেইন)-এর প্রতিষ্ঠাতা সেখ নাঈম হাসান মুন এবং অভিভাবিকা উম্মে সালমা তাঁদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাঁরা জানান, মুখস্থবিদ্যার বাইরে গিয়ে এমন বাস্তবিক আয়োজন কোমলমতি সন্তানদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং নতুন কিছু সৃষ্টিতে উৎসাহিত করে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সাল জানান, শিক্ষার্থীদের আধুনিক, নীতিবান ও বিজ্ঞানমনস্ক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। আগামীতেও এমন শিক্ষার্থী-বান্ধব ও যুগোপযোগী মেলা আয়োজন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নেই অতিথিরা খুদে বিজ্ঞানীদের প্রদর্শনীর প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র এবং স্মারক পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এই মেলায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, অভিভাবক ও কৌতূহলী দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *