যৌতুকের বলি রিমা!

যৌতুকের বলি রিমা!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একপর্যায়ে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত এসেছে’ বলে উসকানিমূলক ঘোষণা দিয়ে নিহতের স্বজনদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত গৃহবধূর নাম রিমা। তিনি গোপালপুর গ্রামের টিপু সুলতানের স্ত্রী এবং ঝুমঝুমপুর বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের হোসেন মোল্লার মেয়ে। বর্তমানে রিমার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই রিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ১ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। গতকাল বুধবার বিকেলে রিমার কাছে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আকস্মিক আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বাপের বাড়ি থেকে এই টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে রিমার ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। নিহতের স্বজনদের দাবি, নির্যাতনের একপর্যায়ে রিমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং এটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচারের চেষ্টা চালানো হয়।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রিমার মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর চাচাতো ভাই আসলাম, সোহেল রানাসহ বাপের বাড়ির স্বজনরা গোপালপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে রিমার কপালে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ও আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ সময় অভিযুক্ত টিপু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দিতে বাপের বাড়ির লোকজনকে চাপ সৃষ্টি করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, বেগতিক দেখে নিজেদের অপরাধ লুকাতে টিপুর পক্ষের লোকজন স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে আকস্মিক ঘোষণা দেয় যে— ‘গ্রামে ডাকাত এসেছে’। এই উসকানিমূলক ও মিথ্যা ঘোষণা শুনে গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে রিমার নিরপরাধ স্বজনদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেধে যায় এবং আসলাম (৩৫), সোহেল রানা (৪২) সহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত টিপুর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা রিমাকে হত্যা করেননি; বরং পারিবারিক কলহের জেরে রিমা নিজেই অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল এবং ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মমিনুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের বিশাল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ ও তৎপরতা চালিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *