স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
চার দেয়ালের বন্দিজীবনে সবুজের ছোঁয়া ও প্রকৃতির সতেজতা ছড়িয়ে দিতে এক অনন্য ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার মহৎ প্রত্যয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক উৎসবমুখর পরিবেশে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১ হাজার ৫৯৪টি বনজ, ফলজ, ঔষধি ও ফুল গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারের চারপাশ আরও সবুজ করতে আরও ১ হাজার ৫০০টি গাছের চারা রোপণের প্রক্রিয়া জোরকদমে চলমান রয়েছে।
আজ সকালে এক আনন্দঘন পরিবেশে এই সুবৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোঃ আব্দুর রহিম, জেলার আবিদ আহমেদ এবং সর্বপ্রধান কারারক্ষী মোঃ হাবিবুর রহমান শীতলসহ অন্যান্য কারারক্ষী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। প্রত্যেকে নিজ হাতে চারা রোপণ করে এই সবুজ বিপ্লবে অংশ নেন।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, রোপণকৃত ১ হাজার ৫৯৪টি চারার মধ্যে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং কারাগারের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য চার ধরনের গাছকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যার একটি নিখুঁত পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো:
-
ফলজ চারা (সর্বমোট ১৪৮৭টি): সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে পুষ্টি ও ফলের ওপর। যার মধ্যে রয়েছে— বিখ্যাত জাতের আম ৮২৭টি, জাম ১৯৩টি, লিচু ১৩৫টি, পেয়ারা ১০০টি, বরই ৮৪টি, কাঁঠাল ৫০টি, লেবু ৩০টি, তেঁতুল ও জলপাই ১০টি করে, আমড়া ১০টি, আঁশফল ৮টি এবং ডালিম, বেল, কদবেল, আমলকী ও কামরাঙা ৫টি করে।
-
ঔষধি চারা (সর্বমোট ৬০টি): কয়েদি ও সংশ্লিষ্টদের সুস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে রোপণ করা হয়েছে— নিম ২০টি এবং হরিতকী, বহেরা, অর্জুন ও বাসক ১০টি করে।
-
ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ (সর্বমোট ৩২টি): কারাগারের পরিবেশকে স্নিগ্ধ করতে লাগানো হয়েছে— ভিক্টোরিয়া ও ছাতিম ১০টি করে, কৃষ্ণচূঁড়া ও পালমিতা ৫টি করে এবং কাঠগোলাপ ২টি।
-
বনজ গাছ (সর্বমোট ১৫টি): এছাড়া প্রাকৃতির কাঠ ও ভারসাম্য রক্ষায় কড়ই, তুলা ও লংগান গাছ রোপণ করা হয়েছে ৫টি করে।
কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল এই ১৫৯৪টি চারা রোপণ করেই তারা ক্ষান্ত হচ্ছে না; পুরো কারাগার এলাকাকে একটি আদর্শ ‘সবুজ জোন’ হিসেবে গড়ে তুলতে আরও ১৫০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।
সিনিয়র জেল সুপার মোঃ আব্দুর রহিম এই চমৎকার উদ্যোগের বিষয়ে বলেন, “গাছ কেবল আমাদের অক্সিজেন ও ফল দেয় না, এটি মানুষের মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়। জলবায়ু পরিবর্তনের হাত থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। কারাগারের বন্দিদের মাঝেও যেন প্রকৃতির এই ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, সেই লক্ষ্যেই আমরা এই বিশাল আয়োজন করেছি। রোপণকৃত গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা হবে।”
কারাগার কর্তৃপক্ষের এমন দূরদর্শী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন যশোরের সুশীল সমাজ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। অনেকেই মনে করছেন, দেশের অন্যান্য কারাগার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের এই সবুজায়ন কর্মসূচি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ছবি সংগৃহীত।


