যশোরে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সুমন গ্রেফতার

যশোরে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সুমন গ্রেফতার

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর জেলা ও শহর রাজপথের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের অন্যতম অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের শহর শাখার বিতর্কিত আহ্বায়ক সুমনকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটককৃত সুমন যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা আকামত আলীর ছেলে বলে পুলিশ সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অমান্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দায়েরকৃত একটি স্পর্শকাতর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আজ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে, আদালতের বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে সরাসরি জেলহাজতে বা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় যশোর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত পুরাতন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের প্রধান প্রবেশদ্বারের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ তাদের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের আনুমানিক ১০০ থেকে ১৩০ জন নেতাকর্মী আকস্মিকভাবে জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী ও উসকানিমূলক একটি ঝটিকা মিছিল বের করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি চৌকস দল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া নেতাকর্মীরা তাদের সাথে থাকা মোমবাতি ও হারিকেনসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদিতে আগুন জ্বালানো অবস্থায় সড়কেই ফেলে রেখে চারদিকে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওইসব আলামত জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ওই ঘটনার পর কোতোয়ালি থানায় দায়েরকৃত নিয়মিত মামলার সুদীর্ঘ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়ায় এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতের গোপন রাজনৈতিক জমায়েত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার সাথে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সুমনের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও ষড়যন্ত্রের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্তে নাম আসার পরই সুনির্দিষ্ট ওই অপরাধের জেরে পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সুমনকে তাঁর এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আজ দুপুরে তাঁকে কঠোর পুলিশি পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক আইনি শুনানি শেষে তাঁকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।  ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *