চৌগাছায় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের পকেটভারীর মিশন!

চৌগাছায় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের পকেটভারীর মিশন!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের চৌগাছা উপজেলা সদরের প্রধান কাঁচাবাজারে সরকারি ইজারার কঠোর শর্ত ও নিয়মনীতি সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ১৪টি নতুন দোকানঘর নির্মাণ এবং সেই দোকান বরাদ্দের আড়ালে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কাঁচাবাজার আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির প্রভাবশালী সভাপতি ফসিয়ার রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেনের বিরুদ্ধে এই বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বাজারের ভেতরের ফাঁকা জায়গা দখল করার এই ঘটনায় পুরো চৌগাছা বাজার জুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও বাজার ইজারা সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা কাঁচাবাজারের বর্তমান প্রধান ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু সরকারের কাছ থেকে সর্বমোট ১ কোটি ৪১ লাখ ১ হাজার ৪৭৫ টাকার এক বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে চলতি বছরের জন্য বাজারটি ইজারা নেন। সরকারি ইজারা চুক্তির প্রধান শর্ত অনুযায়ী, বাজারের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের অবাধ যাতায়াতের সুবিধার্থে কাঁচাবাজারের ভেতরে কোনো প্রকার স্থায়ী বা অস্থায়ী নতুন স্থাপনা বা দোকানঘর নির্মাণের কোনো আইনি সুযোগ নেই। কিন্তু সেই তোয়াক্কা না করে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের স্বার্থে তথাকথিত ‘পুনর্বাসনের’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বাজারের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফাঁকা জায়গায় রাতারাতি ১৪টি দোকানঘর নির্মাণ করে ফেলেছেন।

স্থানীয় কাঁচাবাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের দাবি, এই ১৪টি অবৈধ দোকানঘর বরাদ্দ দেওয়ার নাম করে আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির শীর্ষ দুই কর্মকর্তা ফসিয়ার ও আয়নাল প্রতিটি দোকানের বিপরীতে ৫০ হাজার টাকা করে টোল নির্ধারণ করেন। সেই অনুযায়ী ১৪টি দোকান থেকে মোট ৭ লাখ টাকা অগ্রিম হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন। যারা টাকা দিতে পেরেছেন, তাদেরই এই অবৈধ দোকানগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি ইজারার শর্ত ভঙ্গ হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের বাজারে হাঁটাচলার পথ সংকুচিত হয়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং নিয়ম ভাঙার এই গুরুতর অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান। তিনি নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা আনতেই মূলত এই পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। আর দোকানপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ টাকা আদায়ের যে কথাটি বাজারে ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি পক্ষ আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এই প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।”

এদিকে ফসিয়ার রহমান অভিযোগ অস্বীকার করলেও মাঠপর্যায়ের সাধারণ কাঁচামাল বিক্রেতা ও সচেতন মহল তাঁর এই বক্তব্য মানতে নারাজ। তাদের দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকে বাজারের জমি দখল করে দোকান বানিয়ে লাখ টাকার বাণিজ্য করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। এই জঘন্য অনিয়মের পেছনে বড় কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এবং কাঁচাবাজারের সরকারি জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করতে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা অঞ্চলের বিজ্ঞ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন চৌগাছা বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী সমাজ।

ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *