স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট : মনিরামপুরে ভাগ্নিকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় হত্যাকাণ্ডের শিকার নিহত ইমামুল হোসেন (৫০) হত্যা মামলায় ২জন হত্যাকারীকে আটক করেছে র্যাব-৬।

জানাগেছে, মামলা দায়েরের পর থেকেই খুনিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬ যশোরের একটি আভিযানিক দল বুধবার রাত সোয়া বারোটার দিকে কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার রজনীগন্ধা তেলের পাম্প সংলগ্ন প্রধান সড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে মোটরসাইকেল আরোহী এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত রাব্বি এবং তার মূল সহযোগী রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদের জেরে ইমামুল হোসেনকে সঙ্ঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার দায় সরাসরি স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কঠোর পুলিশি পাহারায় মনিরামপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত পলাতক থাকা অপর আসামি রবিউল, হোসাইন ও মেহেদীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারে পুলিশ ও র্যাবের একাধিক টিম মনিরামপুরের বিভিন্ন গ্রামে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসতপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত রহিম সরদারের ছেলে ইমামুল গত ৮ জুন রাতে মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের শরমপুর গ্রামে এসেছিলেন। পূর্ব শত্রুতা এবং ভাগ্নিকে রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত ও ইভটিজিং করার ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বখাটে ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী রবিউল, হোসাইন, রাকিব, মেহেদী ও রাব্বি নামের একদল উগ্র যুবক শরমপুর গ্রামের মতিনের দোকানের পেছনে অন্ধকার ও নির্জন জায়গায় দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে তার উপর হামলা করে। এ সময় খুনিরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে।
স্থানীয়রা মুমূর্ষু ও রক্তাক্ত অবস্থায় ইমামুল হোসেনকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমামুল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মনিরামপুর থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ছবি সংগৃহীত।

