অন্ধকারে চেনার আগেই সর্বনাশ! চাঁচড়ায় একই রাতে এক বাড়ীতেই দুই নারীকে ধর্ষণ!

অন্ধকারে চেনার আগেই সর্বনাশ! চাঁচড়ায় একই রাতে এক বাড়ীতেই দুই নারীকে ধর্ষণ!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের চাঁচড়া মাগুরপট্টি এলাকায় মধ্যরাতে ঘরের ভেতর ঢুকে এক গৃহবধূ ও তাঁর ননদের কিশোরী মেয়েকে পালাক্রমে ধর্ষণের এক বর্বরোচিত ও লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে।

আটককৃত যুবকের নাম রকি (২৮)। সে চাঁচড়া ডালমিল এলাকার রাজ্জাক হোসেনের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক রকির অপরাধের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ; তার বিরুদ্ধে এর আগেও একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা ছিল এবং সে ওই মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে জেলও খেটেছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার (১০ জুন ২০২৬) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চাঁচড়া মাগুরপট্টি এলাকার একটি ঘরে ওই গৃহবধূ এবং তাঁর ননদের কিশোরী মেয়ে একসঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। ওই সময় গৃহবধূর স্বামী পারিবারিক কাজে ঘরের বাইরে অবস্থান করছিলেন। স্বামী বাড়িতে না থাকার সুবাদে এবং গভীর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কুখ্যাত অপরাধী রকি কৌশলে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে।

অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে রকি প্রথমে ঘুমন্ত গৃহবধূর ওপর চড়াও হয়। তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ওই গৃহবধূ ভেবেছিলেন তাঁর স্বামী ঘরে ফিরে এসেছেন। এই সুযোগে অন্ধকারে তাঁকে প্রথম দফায় ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে গৃহবধূ সম্পূর্ণ জেগে উঠলে রকি তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও হত্যার ভয় দেখিয়ে খাটের পাশে ঘুমিয়ে থাকা গৃহবধূর ননদের কিশোরী মেয়েকেও (১৭) জোরপূর্বক ধর্ষণ করে রকি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই গৃহবধূর স্বামী বাড়ি ফিরলে পুরো বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়। ভুক্তভোগী পরিবারটি বিন্দুমাত্র দেরি না করে রাতেই যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হাজির হয়ে পুলিশের আশ্রয় নেন। ঘটনার ভয়াবহতা অনুধাবন করে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গভীর রাতেই চাঁচড়া ডালমিল এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে ধর্ষক রকিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও বর্বরোচিত। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা অভিযুক্ত আসামি রকিকে আটক করেছি। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকেই ভুক্তভোগী দুই নারীকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (OCC) প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা করানো হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আজ দুপুরের পর মামলা রেকর্ড করে ধৃত আসামি রকিকে এবং ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। এই ঘটনার পর চাঁচড়া এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *