মাগুরা সংবাদদাতা:
মাগুরা শ্রীপুর উপজেলায় এক স্কুল ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২২ মে) রাতে উপজেলার আম্বলসার ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রাম থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলা থানায় গত ২২ মে ২০২৬ তারিখে জিআর নং-২৩ অপহরণ, ধর্ষণ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অপরাধে ভুক্তভোগীর (১৪) মা হেলেনা বেগম (৩৬) বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন বিলনাথুর গ্রামের বদর বিশ্বাসের ছেলে মোঃ সৌরভ রানা বিশ্বাস (২০), একই গ্রামের মো. সেলিমের ছেলে মো. অনিক (১৯), ইছাপুর গ্রামের মৃত শহীদ বিশ্বাসের ছেলে রানা বিশ্বাস (২০), বিলনাথুর গ্রামের ফজলু শেখের ছেলে নয়ন শেখ (১৯), বিলনাথুর গ্রামের মোঃ জিল্লুর রহমানের ছেলে মো. হুসাইন(২১).
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম আম্বলসার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। অভিযোগে বলা হয় আসামি সৌরভের সাথে ভুক্তভোগীর মোবাইলের ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ এবং পরিচয় হয়। এই পরিচয়ের সূত্রে ভুক্তভোগীরকে প্রেমের প্রস্তাব ও বিবাহ করার প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল। গত ৪ মে২০২৬ তারিখে সৌরভ ভুক্তভোগীর সাথে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। ভুক্তভোগী দেখা করার প্রস্তাবে সারা দিয়ে সকাল দশটায় শ্রীপুর বাজার সংলগ্ন বালুর মাঠে দেখা করে। সাথে থাকা বন্ধুদের সহযোগিতায় এজাহারে উল্লেখিত নয়ন শেখের ভ্যানে ভুক্তভোগীর কে জোরপূর্বক তুলে ফ্রি কল ইউনিয়নের পরিচয় গ্রামের মিন্টু মাছের ঘেরের পূর্ব পাড়ে কলা বাগানের উপস্থিত পাঁচজন সঙ্গবদ্ধ ধর্ষণ করে। এ ঘটনা সৌরভ ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। ধর্ষণ শেষে ভুক্তভোগীকে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী বাড়িতে এলেও ঘটনা জানাজানির ভয়ে পরিবারের কাউকে কিছু বলেনি।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, ১৯ মে তারিখে সকালে ধর্ষণ ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করে এবং বিস্তারিত জানায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা হেলেনা বেগম জানান, মেয়ে নাবালিকা থাকায় সৌরভ বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আমার মেয়েকে অপহরণ করে ধর্ষণ করেছে। এই কাজ করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও প্রচার করে আমার মেয়ে এবং পরিবারের মান সম্মান ধ্বংস করে দিয়েছে। আমি এই ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এছাড়াও সরকারকে বলব সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও যেন সরিয়ে ফেলা হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলি মিয়া মুঠোফোনে বলেন, স্কুল ছাত্রীর মায়ের দায়ের করা মামলায় পাঁচ জনের নাম এসেছে। এদের মধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে আজ শনিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইমুনাল আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা স্বীকারোক্তি দেওয়ায় বিজ্ঞ আদালত কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দিয়েছেন। বাকি দুই আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ছবি সংগৃহীত।


