মহাসড়কে চাকা পাংচার হয়ে উল্টে গেল অটোগাড়ি

মহাসড়কে চাকা পাংচার হয়ে উল্টে গেল অটোগাড়ি

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া :

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আকিকা অনুষ্ঠান শেষে আনন্দঘন পরিবেশে বাড়ি ফেরার পথে এক নিয়ন্ত্রণ হারানো সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাটারিচালিত অটোগাড়ি উল্টে চালক ও এক শিশু যাত্রীসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (২ জুন, ২০২৬) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের রজপাড়া মাদ্রাসার সামনে এই আকস্মিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন—অটোগাড়ির চালক হাফিজ (৪০) এবং ১২ বছর বয়সী এক শিশু কন্যা ফারিয়া। এছাড়া ওই গাড়িতে থাকা আরও কয়েকজন শিশু যাত্রীসহ অন্যান্যরা কমবেশি সাধারণ জখম হয়েছেন। আহত গাড়িচালক ও সকল যাত্রী কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও আহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আমতলী এলাকায় একটি আকিকা অনুষ্ঠান শেষে একটি ব্যাটারিচালিত অটোগাড়িতে চড়ে যাত্রীরা কলাপাড়ার বালিয়াতলীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে গাড়িটি কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের রজপাড়া মাদ্রাসার সামনে পৌঁছালে হঠাৎ চলন্ত অটোগাড়ির একটি চাকা বিকট শব্দে পাংচার হয়ে যায়। এতে চালক মুহূর্তের মধ্যে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং অটোগাড়িটি সড়ক থেকে ছিটকে উল্টে গিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি গভীর খাদে পড়ে যায়। গাড়িটি উল্টে যাওয়ার সাথে সাথে ভেতরের যাত্রীদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে অবিলম্বে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র আরও নিশ্চিত করেছে যে, চিকিৎসাধীনদের মধ্যে শিশু ফারিয়ার ডান পা মারাত্মকভাবে ভেঙে যাওয়ায় কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত ও জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় আহত অটোগাড়ির চালক হাফিজসহ গাড়িতে থাকা অন্যান্য সাধারণ যাত্রীদের আঘাত তুলনামূলক কম গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে কলাপাড়া হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার ও বালিয়াতলী এলাকায় সাময়িক উদ্বেগ ও শোকের আবহ বিরাজ করছে।ছবি প্রতিবেদক।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *