স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় রাতের খাবার খেয়ে নিজ শয়নকক্ষে গিয়ে নুর বানু (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গত রোববার (১ জুন) রাতে মণিরামপুর উপজেলার বিজয়রামপুর গ্রামে এই বেদনাদায়ক ও রহস্যজনক ঘটনাটি ঘটে। নিহত বৃদ্ধা নুর বানু ওই গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব হোসেনের সহধর্মিণী বলে পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বৃদ্ধ বয়সে তাঁর এমন চরম ও আকস্মিক আত্মহননের সিদ্ধান্তে পুরো বিজয়রামপুর গ্রাম জুড়ে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের পারিবারিক ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের সকল সদস্যদের সাথে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে রাতের খাবার সম্পন্ন করেন নুর বানু। নৈশভোজ শেষে তিনি ঘুমানোর উদ্দেশ্যে নিজ শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন এবং ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পারিবারিক প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে শয়নকক্ষের বাইরে থেকে ডাকাডাকি করতে থাকেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে বারবার ডাকার পরও ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্বজনদের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। একপর্যায়ে তারা ঘরের জানালা দিয়ে উঁকি দিলে দেখতে পান, ঘরের ভেতরের কাঠের আড়ার (বা চালের কাঠ) সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় নুর বানুর দেহ ঝুলছে।
স্বজনদের চিৎকার ও আকুল আহাজারিতে প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নুর বানুকে উদ্ধার করেন। তাকে অবিলম্বে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আত্মহত্যার খবর পেয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিসহ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পারিবারিক অভিমানে তিনি এই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ কিংবা পরিবার নিশ্চিত করতে পারেনি। মণিরামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আত্মহত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

