প্রেসক্লাব যশোরে বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলমের জন্মদিনে আবেগের মেলবন্ধন

প্রেসক্লাব যশোরে বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলমের জন্মদিনে আবেগের মেলবন্ধন

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

“আজি শুভদিনে পিতার ভবনে অমৃত সদনে চলো যাই, চলো চলো, চলো ভাই”—সুরধুনী সংগীত নিকেতনের শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠের এই কালজয়ী গানের সুর লহরী আর করতালির মধ্য দিয়ে প্রেসক্লাব যশোরের গোলাম মাজেদ অডিটোরিয়ামে উদযাপিত হলো বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর উপ-প্রধান, প্রখ্যাত আইনজীবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রবিউল আলমের ৭৬তম জন্মবার্ষিকী। আজ মঙ্গলবার (২ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যায় ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা জন্মবার্ষিকী উদযাপন পর্ষদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং তা রূপ নিয়েছিল যশোরের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এক প্রাণবন্ত ও গভীর আবেগঘন মিলনমেলায়। উৎসবের মূল আকর্ষণ হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম তাঁর সহধর্মিনী মৌলুদা আলম এবং উপস্থিত সুধীজনকে সাথে নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে জন্মদিনের কেক কাটেন। প্রবীণ এই জননেতার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে এদিন জেলা ও শহরের অর্ধশতাধিক সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়।

অনুষ্ঠানের মূল শুভেচ্ছা পর্বে উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক হারুন আর রশিদের সভাপতিত্বে মঞ্চে রবিউল আলমের বর্ণাঢ্য জীবনীর ওপর আলোকপাত করে বক্তব্য রাখেন একঝাঁক কৃতি ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এ এস এম মুজহারুল ইসলাম মন্টু, সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক হোসেন এবং যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম উদ দ্দৌলা অন্যতম। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও গ্রামের কাগজ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন এবং যশোরের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষে সানোয়ার আলম খান দুলু। অনুষ্ঠানে এই মহান বীরের বর্ণিল ও গৌরবোজ্জ্বল জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করে শোনান যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের (জেইউজে) সাধারণ সম্পাদক মিলন রহমান এবং পুরো অনুষ্ঠানটি চমৎকার নিপুণতায় সঞ্চালনা করেন উদযাপন পর্ষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজেদ রহমান।

আয়োজনের শেষভাগে এসে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি কবিগুরুর ভাষায় ব্যক্ত করেন, “এই মনিহার আমার নাহি সাজে।” জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সাধারণ মানুষের এমন অকৃত্রিম ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশ করার ভাষা তাঁর জানা নেই উল্লেখ করে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, যারা বলে একাত্তর হারিয়ে গেছে, তারা সেই একাত্তর সালেও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল এবং এখনও থাকবে। সেই সাথে তিনি নতুন প্রজন্মসহ উপস্থিত সকলকে সর্বদা অসাম্প্রদায়িক চেতনা বুকে ধারণ করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, যশোর ইনস্টিটিউট, উদীচী, চাঁদের হাট যশোর, ব্যঞ্জন থিয়েটার, বিবর্তন, জয়তী সোসাইটি, সম্মিলনী ইনস্টিটিউশনের প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ, সম্মিলনী ৮৬, দ্যোতনা সাহিত্য পরিষদ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ এবং দৈনিক কল্যাণ ও গ্রামের কাগজ পরিবারসহ অর্ধশতাধিক সংগঠনের ফুলেল শুভেচ্ছায় চারপাশ এক অপরূপ রূপ ধারণ করে। ‘স্ফুলিঙ্গ অনলাইন নিউজ’ পরিবারের পক্ষ থেকে এই অনন্য বাতিঘরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে জানানো হয় গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *