ডাঃ কেরামত আলী,কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা):
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর (বড়) মৌজায় পৈতৃক সম্পত্তিতে জোরপূর্বক ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে জবরদখল করার অভিযোগ উঠেছে। জমির এসএ খতিয়ান থেকে শুরু করে হাল দাখিলা পর্যন্ত সমস্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত মালিক নজরুল ইসলাম গং জমিতে গেলে প্রতিপক্ষ তাদের মারপিট ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় গত ২৬ মে ২০২৬ তারিখে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম (৭০)।
অভিযোগ ও সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মৌজার ৪৯১ নম্বর খতিয়ান এবং ১৫২৯ নম্বর দাগের ১৫ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। জমিটি নজরুল ইসলাম গংয়ের পৈতৃক সম্পত্তি এবং এসএ, আরএস রেকর্ড, খাজনা, দাখিলা ও মিউটেশনসহ প্রয়োজনীয় সকল বৈধ কাগজপত্র তাদের নামেই রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৫ মে ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত খাদেম আলীর ছেলে তাছের সরদার ও হারুন সরদারসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে ওই বিরোধপূর্ণ জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কাটা শুরু করেন। এ সময় অভিযোগকারী ও তার স্বজনরা বাধা দিতে গেলে তাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, মারধরের হুমকি এবং প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
অভিযোগকারী জানান, উক্ত জমি নিয়ে পূর্বে প্রতিপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছিল, যা বর্তমানে বিচারাধীন। আদালত উভয় পক্ষকে ওই জমিতে স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও তা অমান্য করে জমিতে মাটি কাটা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করায় যেকোনো সময় সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, “বাদী ও বিবাদী পক্ষকে নিয়ে আমি একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিবাদীরা গায়ের জোরে জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং তারা আইনকে কোনো তোয়াক্কা করছে না।”
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, “আমি নবাগত হিসেবে থানায় যোগদান করেছি। অভিযোগটি কিছুদিনের পুরোনো। উভয় পক্ষ থানায় এলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ছবি সংগৃহীত।

