কালিগঞ্জে ঘের ব্যবসায়ী সঞ্জিব হত্যা,৪ আসামির মধ্যে ১ জন গ্রেফতার, মূলহোতারা পলাতক

কালিগঞ্জে ঘের ব্যবসায়ী সঞ্জিব হত্যা,৪ আসামির মধ্যে ১ জন গ্রেফতার, মূলহোতারা পলাতক

ডাঃ মোঃ কেরামত আলী, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা):

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের ঠেকরা-রহিমপুর গ্রামের চাঞ্চল্যকর ঘের ব্যবসায়ী সঞ্জিব কুমার সরকার (৩৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় আনুষ্ঠানিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ৪ আসামির মধ্যে ১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মূল পরিকল্পনাকারী ডালিম সরকারসহ অন্য আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় চরম অজানা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে নিহতের পরিবার।

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত ১২টায় নিহতের বাবা গোপাল চন্দ্র সরকার (৬৯) বাদী হয়ে কালিগঞ্জ থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে এই মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নং-১/১৪০)। পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় রুজু করা এই এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা এবং হত্যার পর আলামত গোপনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত আসামীরা হলেন-আনন্দ সরকার (৫০), তাপস সরকার ওরফে ডালিম সরকার (২৭), শাওন সরকার (১৯) ও নেপাল চন্দ্র সরকার (৫২)। এদের মধ্যে একজনকে পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর নাম প্রকাশ করেনি।

মামলার বিবরণ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত সঞ্জিব সরকার পেশায় একজন সফল মাছের ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় সঞ্জিব তাঁর বাবার সাথে বাড়ির কাছের একটি মাছের ঘেরে সেচ দিয়ে পানি তুলতে যান। রাতের দিকে কাজ শেষে বাবা গোপাল চন্দ্র সরকার বাড়ি ফিরে এলেও ঘের পাহারা দেওয়ার জন্য সঞ্জিব সেখানেই থেকে যান। পরদিন বুধবার (১ জুলাই) ভোরে গোপাল চন্দ্র সরকার পুনরায় ঘেরে গিয়ে নিজের সন্তানের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় কালিগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত সঞ্জিব সরকার তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী প্রিয়া মণ্ডল এবং মাত্র ১০ মাস বয়সী এক অবুজ কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা।

নিহতের পরিবারের দাবি, আসামিদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা এবং মাছের ঘেরের সীমানা নিয়ে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সঞ্জিবকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ঘেরের পাড়ে ফেলে রেখে যায়। তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ডালিম সরকারসহ সকল জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “নিহতের বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. আব্দুর রহিমের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এজাহারনামীয় এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণ করে দ্রুতই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে।” ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *