ডাঃ কেরামত আলী,কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা):
যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং সরেজমিনে তদন্তের সময় সরকারি কাজে বাধার সৃষ্টি করায় কালিগঞ্জে শেখ শোকর আলী নামে এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৫টায় উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের মহিষকুড় গ্রামে এ আদালত পরিচালিত হয়।
স্থানীয় ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, মহিষকুড় গ্রামের বাসিন্দা মতিউর রহমানের বসতবাড়ির চলাচলের মূল গেট বন্ধ করে জোরপূর্বক পাকা সীমানা প্রাচীর (দেয়াল) নির্মাণ করেন একই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে শেখ শোকর আলী। এতে মতিউর রহমানের পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে অবরুদ্ধ ও চরম জিম্মিদশায় দিন কাটাচ্ছিলেন।
কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি অবরুদ্ধ দশা থেকে পরিত্রাণ পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের গুরুত্ব অনুধাবন করে অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্ত করতে মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থলে যান কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনুল ইসলাম খান। তদন্তকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রাখার সত্যতা পান।
তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে অভিযুক্ত শোকর আলী প্রশাসনের সামনেই হট্টগোল ও উসকানিমূলক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালান। পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও সে আরও বেপরোয়া আচরণ শুরু করে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ১১ ধারায় তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শোকর আলীকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এক পরিবারের অবরুদ্ধ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মঈনুল ইসলাম খানের এই সাহসী ও কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। ছবি সংগৃহীত।

