প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ স্কুলের প্রধান শিক্ষক!

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ স্কুলের প্রধান শিক্ষক!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এক প্রবাসীর শিক্ষিকা স্ত্রীর মধ্যকার ‘অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা’ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই কানাঘুষা চলছিল কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বল্লভপুর গ্রামে। তবে সেই গুঞ্জন যে মাঝরাতে এমন এক চরম নাটকীয় রূপ নেবে, তা হয়তো ভাবেনি কেউ। প্রবাসীর স্ত্রীর শোবার ঘর থেকে আপত্তিকর অবস্থায় মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুক্তল হোসেনকে (৫০) আটকের পর গণধোলাইয়ের ঘটনা এখন নেটদুনিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল।

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতের এই ঘটনাটি নিয়ে একদিকে যেমন সমাজজুড়ে বইছে নিন্দার ঝড়, অন্যদিকে শিক্ষককে হাসপাতাল থেকে উধাও করে দেওয়া এবং প্রবাস থেকে স্বামীর দেওয়া এক ‘রহস্যজনক’ বক্তব্য ঘটনাটিকে নতুন মোড় দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঊজানীজোড়া গ্রামের এক প্রবাসীর ৩০ বছর বয়সী স্ত্রী নিজে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করার সুবাদে প্রধান শিক্ষক মুক্তল হোসেনের সাথে গভীর সখ্যতা গড়ে তোলেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষকের প্রায়শই অসময়ে ওই বাড়িতে যাতায়াত করাটা প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহের জন্ম দেয়। গত মঙ্গলবার রাতে শিক্ষক মুক্তল হোসেন ওই ঘরে ঢোকার পরপরই স্থানীয় যুবকেরা পুরো বাড়িটি ঘেরাও করে ফেলেন। টের পেয়ে শিক্ষক পালানোর চেষ্টা চালালেও শেষরক্ষা হয়নি। বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে ধরা পড়ার পর শুরু হয় উত্তম-মধ্যম। সেই মারধরের ভিডিও রাতেই ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকের পাতায় পাতায়।

উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করতে দেবিদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ঘটে এক নাটকীয় মোড়। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ‘চিকিৎসার অজুহাতে’ মারধরের শিকার শিক্ষককে নিয়ে চম্পট দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তল্লাশি চালিয়েও তাঁর কোনো হদিস মেলাতে পারেনি।

এদিকে, এই ন্যাক্কারজনক কাণ্ডে যখন পুরো এলাকা ক্ষুব্ধ, তখন দূর প্রবাস থেকে ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর এক ভিন্ন সুর সবাইকে চমকে দিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, কোনো অনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং সম্পূর্ণ পারিবারিক একটি জটিল সংকটের কারণে প্রধান শিক্ষক তাঁর স্ত্রীর সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। স্বামীর এমন সাফাইয়ের পেছনে কোনো সামাজিক বা পারিবারিক চাপ রয়েছে কি না— তা নিয়ে এখন স্থানীয়দের মাঝে জোর আলোচনা চলছে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম বল্লভপুর গ্রামে যায়। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই একটি পক্ষ তাকে সরিয়ে নেয় এবং হাসপাতালে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগী পরিবার বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই আমরা পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেব।”

ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *