স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় প্রতিবেশী এক নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে এনজিও (এনজিও সংস্থা) থেকে ঋণ তোলাইয়ে বিদেশে যাওয়ার নামে নেয়া নগদ ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নজরুল হোসেন নামে এক প্রবাস ফেরত যুবকের বিরুদ্ধে। পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় ওই নারীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মণিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত নজরুল হোসেন মণিরামপুর উপজেলার বিজয়রামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিমের ছেলে।
মণিরামপুর থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিজয়রামপুর গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল হোসেনের স্ত্রী নারগিস খাতুন তাঁর প্রতিবেশী নজরুলকে বিদেশে (কম্বোডিয়া) পাঠানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে নিজের নামে এনজিও থেকে ঋণ তুলে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার দেন। কম্বোডিয়ায় অবস্থানকালে নজরুল সেই টাকার একটি আংশিক অংশ পরিশোধ করেন। তবে বাকি টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও এবং পুনরায় বিদেশে কাজের সুবিধার্থে গত ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর নারগিস খাতুন আবারও এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে নজরুলকে আরও ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।
ভুক্তভোগী নারগিস খাতুনের দাবি, পূর্বের আংশিক পাওনা টাকা পরিশোধ করলেও বর্তমানে নজরুলের কাছে তাঁর সুনির্দিষ্টভাবে নগদ ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। কিন্তু বিদেশ থেকে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার পর থেকেই নজরুল সম্পূর্ণ ভোল পাল্টে ফেলেন এবং ওই টাকা পরিশোধ না করার জন্য নানা ধরনের টালবাহানা ও সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশ-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। সর্বশেষ গত ২০ মে সকালে নারগিস খাতুন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নজরুলের কাছে তাঁর পাওনা টাকা দাবি করলে অভিযুক্ত নজরুল সম্পূর্ণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি ফোনে নারগিসকে অকথ্য ও কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং টাকা দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। একই সাথে টাকা চাইলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের ভয়ভীতিসহ চরম হুমকি প্রদর্শন করা হয় বলে নারগিস অভিযোগ করেন। স্থানীয়ভাবে সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর উপায়ান্তর না দেখে ভুক্তভোগী নারগিস খাতুন মণিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবু সাঈদ গণমাধ্যমকে বলেন, “বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নিয়ে প্রতারণা ও হুমকির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে (এসআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংগৃহীত প্রতীকী-ছবি

