স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মণিরামপুর, চৌগাছা ও কেশবপুর উপজেলায় পৃথক তিনটি ঘটনায় তিনজনের অকাল মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন, বিষপানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন এবং দীর্ঘদিনের মানসিক সমস্যার জেরে গলায় ফাঁস দিয়ে একজন আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) সকাল থেকে রাতের বিভিন্ন সময়ে এই দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে।
শনিবার সকাল ৯টার দিকে মণিরামপুর উপজেলার ভোজগাতী ইউনিয়নের আটমাইল এলাকায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাহিম হোসেন (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত মাহিম উপজেলার ভোজগাতী গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহিম কোনো হেলমেট ছাড়াই নিজের মোটরসাইকেলটি চালিয়ে বাড়ি থেকে কুয়াদা বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আটমাইল এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি শক্ত পাকা সড়কের ওপর সজোরে ছিটকে পড়েন। এতে মাথায় ও বুকে গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি রক্তাক্ত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মণিরামপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানের পাঁচদিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিমন হোসেন (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। মৃত লিমন চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের রিপন আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ৭ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পারিবারিক বিষয়ে অভিমান করে নিজ বাড়িতে বিষপান করে লিমন। অসুস্থ হয়ে বমি শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় চৌগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বড়েঙ্গা গ্রামে সাগর খান (২৫) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ওই গ্রামের আব্দুস সালাম খানের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাগর দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক মানসিক রোগ ও মস্তিষ্কজনিত জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। ডাক্তার ও কবিরাজ দিয়ে দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি সুস্থ হননি এবং এর আগেও দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। শনিবার ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজের শয়নকক্ষের বাঁশের আড়ার সঙ্গে নাইলনের রশি পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে স্বজনরা পুলিশে খবর দেয়। কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করে। ছবি সংগৃহীত।

