স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
কাজের আশায় অবৈধ পথে ভারতে গিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে সাজাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে স্বদেশে ফিরেছেন ১৪ জন বাংলাদেশি নারী, পুরুষ ও কিশোর। তবে দীর্ঘদিন পর মাতৃভূমিতে পা রাখলেও তাঁদের কপালে জোটেনি ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা। ইমিগ্রেশন ও থানার আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাতে একটি মানবাধিকার সংস্থার জিম্মায় দেওয়া হলেও, পর্যাপ্ত আশ্রয়ের অভাবে রাতভর তাঁদের বেনাপোলের খোলা আকাশের নিচে অবহেলার শিকার হতে হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
গত শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) রাত ১১টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত কর্তৃপক্ষ বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাঁদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা ১৪ জনের মধ্যে ১১ জন পুরুষ এবং ৩ জন নারী রয়েছেন। তাঁরা দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে কাজের সন্ধানে ও দালালের প্ররোচনায় পড়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরবর্তীতে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের পুলিশের হাতে আটক হয়ে তাঁরা সেখানকার ‘অমৃতসর সেন্ট্রাল কারাগারে’ দীর্ঘ মেয়াদে সাজাভোগ করেন। সাজার মেয়াদ শেষ হলে ভারতীয় আদালতের নির্দেশে তাঁদের বিভিন্ন পুনর্বাসন কেন্দ্র বা সেফ হোমে রাখা হয়। এরপর দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বেনাপোল পোর্ট থানার আইনি কার্যক্রম শেষ করে তাঁদের নিরাপদ পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তার জন্য মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর জিম্মায় দেওয়া হয়। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই রাতেই তাঁদের কোনো নিরাপদ বা স্থায়ী আশ্রয়ে না নিয়ে বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে রাখা হয়। দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তি ও মানসিক ট্রমার পর গভীর রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত এভাবে নারীদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকার দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে এসব ভাগ্যবঞ্চিত মানুষের জন্য অন্তত একটি রাতের জন্য নিরাপদ আবাসন বা শেডের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোর্তজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “উভয় দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ জোরালো উদ্যোগে এই ১৪ জন বাংলাদেশিকে ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফেরানো হয়েছে। দালালের খপ্পরে পড়ে সীমান্ত পাড়ি দেওয়া এই নাগরিকদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আমরা পোর্ট থানায় হস্তান্তর করি।”
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সমস্ত আইনি ডায়েরি বা নথিপত্র সম্পন্ন করার পর তাঁদের নিরাপদে নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে স্বনামধন্য মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে খোলা আকাশের নিচে রাখার বিষয়ে যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শাফিকুল ইসলাম জানান, ফেরত আসা এই নাগরিকদের সাময়িক মানসিক ট্রমা কাটানোর জন্য প্রয়োজনীয় মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা ও যাচাই-বাছাই শেষে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাঁদের নিজ নিজ অভিভাবক ও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।ছবি সংগৃহীত।

