স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সাদীপুর সীমান্তে দীর্ঘ চার দিন ধরে জোরপূর্বক পুশ-ইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ করানোর অপচেষ্টা চালানোর পর অবশেষে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আজ বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) ভোররাতের দিকে শূন্যরেখার ভারতীয় ভূখণ্ডে আটকে থাকা ১৫ জনের ওই দলটিকে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ক্যাম্পের দিকে সরিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর আজ সকালে সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) স্পেশাল ড্রোন উড়িয়ে আকাশপথে ব্যাপক পর্যবেক্ষণ ও তল্লাশি চালায়। ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরও সাদীপুর শূন্যরেখায় নতুন করে কোনো মানুষের অবৈধ উপস্থিতি বা জমায়েত দেখা যায়নি বলে বিজিবি নিশ্চিত করেছে।
এদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুশ-ইনের অনাকাঙ্ক্ষিত চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে গত কয়েকদিন ধরে সাদীপুর সীমান্তে মোতায়েনকৃত বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য ও জোয়ানদের আজ দুপুরের দিকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো অস্থায়ী বাঙ্কারগুলো থেকেও বিজিবি সদস্যদের নিজ নিজ ক্যাম্পে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে অতিরিক্ত শক্তি প্রত্যাহার করা হলেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও যেকোনো ধরণের অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে বিজিবির নিয়মিত ও স্বাভাবিক টহল জোরদার অবস্থায় অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত সংলগ্ন স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, গত রবিবার (৩১ মে) গভীর রাতে বেনাপোল সাদীপুর সীমান্তের ওপারে ভারতের হরিদাসপুর বিএসএফ ক্যাম্প এলাকায় রাতের আঁধারে তিনটি বড় ট্রাকে করে দেড় শতাধিক বাংলাভাষী মানুষকে এনে জড়ো করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এরপর গভীর রাতে সীমান্তের জোরালো ফ্লাডলাইট বা আলো নিভিয়ে দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ১০ থেকে ১২ জনকে জোরপূর্বক শূন্যরেখায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে পাঠায় বিএসএফ। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের টহল দলের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি টের পেয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং তাদের ওখানেই আটকে দেন। এই অনড় অবস্থানের পর থেকে গত তিন দিন ধরে ওইসব অসহায় মানুষদের খোলা আকাশের নিচে সীমান্তে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে দেখা যায়।
স্থানীয় সীমান্তবাসী ও বিশ্বস্ত সূত্রগুলো থেকে আরও জানা গেছে, ওই ১৫ জনকে আজ ভোররাতে সরিয়ে নেওয়া হলেও সীমান্তের ওপারে ভারতীয় অংশে আরও শতাধিক মানুষকে এখনও ক্যাম্পের আশেপাশে অবস্থান করিয়ে রাখা হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সামগ্রিক সীমান্ত পরিস্থিতির বিষয়ে যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান, বিজিবির কঠোর ও অতন্দ্র নজরদারির কারণে বিএসএফের অবৈধ পুশ-ইন প্রচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমানে সাদীপুর সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সাধারণ টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে বলেও এই শীর্ষ বিজিবি কর্মকর্তা উল্লেখ করেন। ছবি সংগৃহীত।

