‘খেলনা পিস্তল দিয়ে সীমান্ত রক্ষা হবে না, বিজিবিকে ভারী অস্ত্র দিন’: বেনাপোলে হুংকার নাসির উদ্দিন পাটওয়ারীর

‘খেলনা পিস্তল দিয়ে সীমান্ত রক্ষা হবে না, বিজিবিকে ভারী অস্ত্র দিন’: বেনাপোলে হুংকার নাসির উদ্দিন পাটওয়ারীর

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধ ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ এবং সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশী নাগরিকদের লাগাতার হত্যার বিচার দাবি করেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ভারত খুনি রাষ্ট্র ও বিএসএফ খুনি বাহিনী। তাদের বিচার হতে হবে। আজ দুপুরে যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

উত্তেজনাপূর্ণ এই সীমান্ত পরিদর্শনে দলটির নেতা-কর্মী ছাড়াও স্থানীয় শত শত সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় ‘এ দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা’, ‘সীমান্ত হত্যা রুখে দিন, চলবে না চলবে না’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সীমান্ত এলাকা।
বক্তব্যে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখার কেউ নেই। সেখানে পর্যাপ্ত হাসপাতাল, স্কুল কিংবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। জীবিকার তাগিদে সীমান্তবাসী কোনো চোরাচালানে জড়ায় না, বরং ভারতীয়রা এই অপকর্ম করে বাংলাদেশের ওপর দোষ চাপায়।
সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিজিবির পেছনে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সমর্থন রয়েছে। বিজিবির হাতে খেলনা পিস্তল দিয়ে সীমান্ত রক্ষা করা যাবে না। তাদের আধুনিক ভারী অস্ত্র, পেট্রোলিং কার দিতে হবে এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা ও বেতন বাড়াতে হবে।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিগত দিনের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো বাংলাদেশী নাগরিক অপরাধ করলেও তাকে বিচার ছাড়া সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। সীমান্ত হত্যার প্রতিটি ঘটনার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া সম্প্রতি ঘটে যাওয়া উসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন তোলেন—কীভাবে খুনিরা সীমান্ত পার হয়ে পালিয়ে যায়? তিনি বলেন, “আমরা কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি বা ‘জজ মিয়া’ নাটক দেখতে চাই না। প্রকৃত খুনি কে, তা বের করতে হবে। অতীত সরকারের আমলের সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের মতো এই বিচার যেন ঝুলে না থাকে।
সবশেষে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৭১, ৯০ কিংবা ২৪-এর গণ-আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ড বা সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত দেশের মানুষ মেনে নেবে না। রক্ত দিয়ে হলেও দেশের সীমান্ত রক্ষা করা হবে।
গত রোববার (৩১ মে) দিনগত রাত থেকে বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের হরিদাসপুর সীমান্ত এলাকায় শতাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে অবস্থান নেয় বিএসএফ। পরে তাদের সাদীপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি বাধা দেয়। এতে কেউ বাংলাদেশে ঢুকতে পারেনি। সর্বশেষ বিএসএফ গতকাল মঙ্গলবার রাতে জড়ো করা লোকজন ফিরিয়ে নেয়। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *