পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের বখাটে সদস্যদের অতর্কিত ও নৃশংস হামলায় নীরব হাওলাদার নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। অত্যন্ত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য দিবালোকে বিদ্যালয়ের পেছনে ডেকে নিয়ে ৫-৬ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য তাকে পৈশাচিক কায়দায় মারধর করে। শুধু মারধরই নয়, এই বর্বর হামলার পুরো দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘টিকটক’ (TikTok)-এ ছড়িয়ে দিয়েছে ঘাতক কিশোরেরা। এই ন্যাক্কারজনক ও দুঃসাহসিক ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার (১৮ মে) বিকেলে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঠিক পেছনে এই লোমহর্ষক হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আহত শিক্ষার্থী কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত নীরব হাওলাদার খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের নাচনাপাড়া গ্রামের পলাশ হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়েরই নবম শ্রেণির ছাত্র মুন্না, ফেরদৌস এবং তাদের ৫-৬ জন কিশোর গ্যাংয়ের সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নীরবকে স্কুলের পেছনে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নীরবের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বখাটেরা। মাথা ও শরীরে উপর্যুপরি মারধরের কারণে নীরব মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা উল্লাসে মেতে ওঠে এবং সেই দৃশ্য মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করে। পরে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় নীরবকে উদ্ধার করে দ্রুত কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই কিশোর গ্যাংয়ের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই ন্যাক্কারজনক ও নিন্দনীয় ঘটনার বিষয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘স্ফুলিঙ্গ’-কে বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের এক পরীক্ষার্থীর ওপর স্কুলের পেছনে এভাবে হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। আমরা কোনোভাবেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে বা ভেতরে এই কিশোর গ্যাং কালচার বরদাশত করব না। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জড়িত বখাটে ছাত্রদের বহিষ্কারসহ পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।”
এদিকে টিকটকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর কলাপাড়া থানা পুলিশের নজরেও বিষয়টি এসেছে। কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম ‘স্ফুলিঙ্গ’-কে বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্কুলছাত্রকে মারধরের একটি ভিডিও আমরা দেখেছি। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই মামলা রেকর্ড করে টিকটকে থাকা ওই কিশোর গ্যাংয়ের সকল সদস্যকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।” ছবি সংগৃহীত।

