স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
সারাদেশের ন্যায় যশোর জেলাতেও বর্ষার শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুস্থ হয়ে একজন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই সময়ে নতুন করে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
আজ বুধবার (১ জুলাই) যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গু সংক্রান্ত দৈনিক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যশোর জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ১১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, চিকিৎসাধীন এই ১১ জন রোগীর সবাই অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। অন্যদিকে, জেলার মূল চিকিৎসা কেন্দ্র যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ বাঘারপাড়া, চৌগাছা, ঝিকরগাছা, কেশবপুর, মণিরামপুর ও শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো বর্তমানে সম্পূর্ণ ডেঙ্গু রোগী শূন্য রয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ১ জুলাই পর্যন্ত গত ছয় মাসে যশোর জেলায় সর্বমোট ১৪২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে ইতিমধ্যে ১৩১ জন সুস্থ হয়ে নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। চিকিৎসার এই সময়ে জেলার কোনো রোগীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বা অন্য কোথাও রেফার করতে হয়নি এবং এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
যশোর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মৃত্যুর হার শূন্য, তবুও বর্ষার এই সময়ে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি পাওয়ার তীব্র ঝুঁকি থাকে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘরের কোণ, ফুলের টব বা ছাদসহ কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। একই সাথে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে এবং ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে এসে বিনামূল্যে পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নেওয়ার জন্য জেলাবাসীকে বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

