অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তার চেক জালিয়াতি !

অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তার চেক জালিয়াতি !

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া):

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অগ্রণী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২৪ লক্ষ টাকার চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিজের স্বাক্ষরিত চেক ব্যাংকের নিজস্ব শাখায় প্রত্যাখ্যাত (ডিজঅনার) হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ঠিকাদার বর্তমানে আইনি ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তার নাম মোঃ মইনুল হোসেন। তিনি অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে বর্তমানে মিরপুর শাখায় কর্মরত। অভিযোগ উঠেছে, গত ২০২৫ সালের শেষের দিকে ভুক্তভোগী প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার মোসাম্মৎ শামীমা আক্তার ববির নিকট থেকে ২৪ লক্ষ টাকা কর্জ নেন মইনুল। জামানত হিসেবে তিনি অগ্রণী ব্যাংক ভেড়ামারা শাখার ২৪ লক্ষ টাকার একটি চেক (হিসাব নম্বর: ০২০০০২৩০৪৩৯৫০) প্রদান করেন।

​গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শামীমা আক্তার ববি চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে সেটি প্রত্যাখ্যাত হয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ডিজঅনার হওয়ার দুটি কারণ উল্লেখ করেছে:

১. অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকা।

২. অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের স্বাক্ষরের অমিল।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছ চেকটি মইনুল হোসেনের নিজের নয়, বরং এটি সারোয়ার হোসেন নামে অন্য এক ব্যক্তির হিসাবের চেক। একজন ব্যাংক কর্মকর্তা হয়ে অন্যের ‘নন-ট্রান্সফারেবল’ (হস্তান্তর অযোগ্য) চেক নিজের বলে স্বাক্ষর করে প্রদান করাকে বড় ধরণের জালিয়াতি ও অপরাধ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

​প্রতারণার শিকার শামীমা আক্তার ববি জানান, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের খাতিরে এবং ব্যাংক কর্মকর্তা হওয়ায় সরল বিশ্বাসে তিনি টাকা ধার দিয়েছিলেন। এখন টাকা ফেরত না পেয়ে এবং চেক জালিয়াতির শিকার হয়ে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি এই প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছেন।

​এ বিষয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা মইনুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চেক প্রদান এবং তাতে স্বাক্ষর করার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তবে স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর দাবি, মইনুলের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন থানায় আর্থিক প্রতারণা ও ভয়ভীতি দেখানোর একাধিক মামলা ও জিডি রয়েছে।

একজন দায়িত্বশীল ব্যাংক কর্মকর্তার এমন জালিয়াতিতে অগ্রণী ব্যাংকের ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে। স্থানীয়রা এই কর্মকর্তার সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ছবি সংগৃহীত

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *