আসামির স্ত্রীর ঘরে এএসআই : অতঃপর গণপিটুনি!

আসামির স্ত্রীর ঘরে এএসআই : অতঃপর গণপিটুনি!

স্ফুলিঙ্গ  ডেস্ক:

রাত তখন ৩টা। চারদিকে নিঝুম অন্ধকার।ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বলিভদ্রদিয়া গ্রামে হঠাৎ শুরু হলো শোরগোল। ‘চোর চোর’ চিৎকার নয়, বরং এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে গ্রামবাসীর চরম উত্তেজনা। পুলিশের পোশাক নেই, গায়ে টি-শার্ট আর প্যান্ট; রক্তমাখা মুখে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছেন সালথা থানার এএসআই ইমরান হাসান। অভিযোগ— আসামি ধরতে নয়, বরং আসামির স্ত্রীর সঙ্গে ‘পরকীয়া’ করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন তিনি।

​এলাকাবাসী ও মামলার সূত্র ধরে জানা যায়, ওই গ্রামের মেহেদী হাসান নামে এক যুবক মাদক মামলার আসামি। মাদক মামলার তদন্ত আর তদারকির সুবাদে এএসআই ইমরানের নিয়মিত যাতায়াত ছিল মেহেদীর বাড়িতে। অভিযোগ উঠেছে, এই সুযোগেই মেহেদীর স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। স্বামী মেহেদী পলাতক বা বাইরে থাকার সুযোগে প্রায়ই গভীর রাতে চলত তাদের অভিসার।

​শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এএসআই ইমরান গোপনে ঢুকে পড়েন মেহেদীর বসতঘরে। কিন্তু আগে থেকেই ওত পেতে থাকা এলাকাবাসী তাকে ঘিরে ফেলে। এরপর শুরু হয় উত্তম-মাধ্যম। ঘটনার ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, পকেট থেকে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বের করে গ্রামবাসী তাকে জেরা করছে, আর রক্তাক্ত মুখে এএসআই ইমরান করুণ সুরে বলছেন, “তুই আমার ভাই না, মারিস কেন?”

​আক্রান্ত পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতেই সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে— পুলিশের পোশাক ছাড়া, কোনো ফোর্স বা সঙ্গী ছাড়া, রাত ৩টার সময় কেন তিনি একা আসামির ঘরে ঢুকলেন? এই প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি তার কাছে।

​অন্যদিকে, মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসান বলছেন অন্য কথা। তার দাবি, “আমি মামলার কারণে বাইরে থাকি। এই সুযোগে এএসআই ইমরান আমার স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দিত। আমি তাদের কুরুচিপূর্ণ আলাপনের অডিও-ভিডিও আগে থেকেই সংগ্রহ করেছিলাম। কাল রাতে সে ঘরে ঢোকামাত্র এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে ধরেছে।”

ঘটনার পর সালথা থানা পুলিশ আহত অবস্থায় ইমরানকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান প্রথমে ‘আসামি ধরতে গিয়ে হামলার’ কথা বললেও, পোশাক ছাড়া গভীর রাতে একা যাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *