৪১ বোতল মাদক ও নগদ ৮০ হাজার টাকাসহ শাহিন গ্রেপ্তার

৪১ বোতল মাদক ও নগদ ৮০ হাজার টাকাসহ শাহিন গ্রেপ্তার

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের সীমান্ত ঘেঁষা চৌগাছা থানা এলাকা দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে অবৈধ ও ক্ষতিকারক তরল মাদকের প্রবেশ রোধ এবং মাদক সিন্ডিকেটের মূল উপড়ে ফেলার লক্ষ্যে কঠোর জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে এক সফল ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। চৌগাছা থানা পুলিশের একটি চৌকস ও সশস্ত্র টিম গভীর রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪১ (একচল্লিশ) বোতল আমদানিনিষিদ্ধ ও মাদকজাতীয় ‘উইনসেরেক্স কফ সিরাপ’ (Wincerex Cough Syrup) এবং মাদক বিক্রির নগদ ৮০,০০০/- (আশি হাজার) টাকাসহ মো. শাহিন আলম (৩১) নামের এক কুখ্যাত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। আজ সোমবার (২৫ মে) রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে চৌগাছা থানাধীন সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের ইন্দ্রপুর গ্রামস্থ আসামির নিজস্ব বসতবাড়ির সামনে ইটের সলিং রাস্তার ওপর এই আভিযানিক সাফল্য আসে। আসন্ন ঈদুল আজহা তথা কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত রুটগুলো ব্যবহার করে মাদক কারবারিদের এমন বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও চোরাচালান তৎপরতা রুখতে পুলিশের এই তাৎক্ষণিক ঝটিকা অ্যাকশন স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

চৌগাছা থানা পুলিশের দাপ্তরিক ও আভিযানিক নথির বিবরণ অনুযায়ী, হাতেনাতে গ্রেপ্তারকৃত এই মাদক কারবারি হলেন—যশোর জেলার চৌগাছা থানাধীন সুখপুকুরিয়া পোস্ট অফিসের অন্তর্গত ইন্দ্রপুর গ্রামের নবীছদ্দীনের পুত্র মো. শাহিন আলম (৩১)। তাঁর মাতার নাম মোছাঃ নাসিমা বেগম। পুলিশের সুনির্দিষ্ট দাবি, ধৃত শাহিন আলম দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত গলিয়ে এই ক্ষতিকারক কফ সিরাপের চালান এনে চৌগাছা পৌর এলাকাসহ যশোরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বাজারে চড়া দামে খুচরা ও পাইকারি সরবরাহ করে আসছিল।

সফল এই মাদকবিরোধী আভিযানিক অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করে চৌগাছা থানা পুলিশ জানায়, যশোরের পুলিশ সুপারের বিশেষ নির্দেশনায় জেলা জুড়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ রাত্রীকালীন ও দিবাগত চিরুনি তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চৌগাছা থানায় কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে গঠিত পুলিশের একটি শক্তিশালী আভিযানিক টিম গত রাতে থানা এলাকায় বিশেষ ডিউটি ও টহলে নিয়োজিত ছিল। একপর্যায়ে একটি নির্ভরযোগ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, ইন্দ্রপুর গ্রামের শাহিন আলমের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান বেচাকেনা ও পাচার করা হচ্ছে। এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন টিমটি গভীর রাতে ওই গ্রামে এক আকস্মিক ও কৌশলগত ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এ সময় নিজের বাড়ির সামনে মাদক হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে থাকা শাহিন আলম পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইটের সলিং রাস্তা দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে পুলিশের চৌকস জওয়ানরা অত্যন্ত তত্পরতার সাথে ধাওয়া করে তাকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয় সাধারণ মানুষের সামনে ওই মাদক কারবারির শরীর ও তার সাথে থাকা ব্যাগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৪১ বোতল ক্ষতিকারক ও অবৈধ উইনসেরেক্স কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদক বিক্রি করে অবৈধভাবে উপার্জিত নগদ ৮০,০০০/- (আশি হাজার) টাকা জব্দ করে পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে চৌগাছা থানা প্রশাসন স্পষ্ট ভাষায় নিশ্চিত করেছে যে, ধৃত শাহিন আলম দেশের যুবসমাজ ধ্বংসকারী এই ভারতীয় তরল মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিল। হাতেনাতে বিপুল পরিমাণ কফ সিরাপ ও মাদক বিক্রির নগদ অর্থসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর ধারা লঙ্ঘন করায় ধৃত আসামির বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ দুপুরের পর সমস্ত আইনি ও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা এবং কঠোর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারি শাহিন আলমকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন আবেদন কঠোরভাবে নামঞ্জুর করে সরাসরি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সীমান্ত অঞ্চলকে সম্পূর্ণ মাদক ও চোরাচালানমুক্ত রাখতে এবং ক্ষতিকারক কফ সিরাপ ও অন্যান্য মাদকের রুটগুলো বন্ধ করতে চৌগাছা থানা পুলিশের এই বিশেষ রাত্রীকালীন অভিযান ও আভিযানিক তৎপরতা আগামী দিনগুলোতেও জিরো টলারেন্স ভিত্তিতে বলবৎ থাকবে বলে থানা প্রশাসন থেকে জোর প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *