স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের বাঘারপাড়ায় প্রকাশ্য মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ১১ মাসের এক দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ধারালো কাঁচি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে এক মাদক ব্যবসায়ী। আজ ২১ জুন ২০২৬ রোববার সকাল আনুমানিক ০৯:০০ ঘটিকার সময় বাঘারপাড়া উপজেলার বড় কুল্লা গ্রামে এই লোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। আহত শিশু সাহাবীর হোসেন ওই গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে সে মুমূর্ষু অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত শিশুর পিতা আসাদুল ইসলাম জানান, তাঁর প্রতিবেশী কুবাদ আলীর ছেলে ইসমাইল ও তার স্ত্রী রেক্সোনা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বসতবাড়ির ঠিক পাশে নির্বিঘ্নে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। আজ সকালে ঘরের পাশে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির সময় আসাদুল এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এতে মাদক ব্যবসায়ী দম্পতি তাঁর ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ইসমাইল ধারালো কাঁচি উঁচিয়ে আসাদুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে কোপ দেয়।
আসাদুল আরও জানান, কাঁচির আঘাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে তিনি ক্ষিপ্রতার সাথে একপাশে সরে গেলে ঘাতক ইসমাইলের সেই কোপটি তাঁর পাশে থাকা ১১ মাসের শিশু সন্তান সাহাবীর হোসেনের ডান পায়ে গিয়ে লাগে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শিশুটির পা কেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশু সাহাবীর হোসেনের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে ধারালো অস্ত্রের গভীর জখমের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটি বেশ দুর্বল। বর্তমানে হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে তাকে অত্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ জালাল আলম জানান, প্রকাশ্য দিবালোকে শিশুর ওপর এমন নৃশংস হামলার খবর পাওয়া মাত্রই থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম দ্রুত বড় কুল্লা গ্রামের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্বরোচিত এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ইসমাইল ও তার স্ত্রী রেক্সোনা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। পলাতক মাদক ব্যবসায়ী দম্পতিকে গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে এবং এই ঘটনায় বাঘারপাড়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

