স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার কৃষি ও বাণিজ্য সমৃদ্ধ অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হৈবতপুর ইউনিয়নের সাতমাইল বাজারে সরকারি রাজস্ব নীতিমালা সম্পূর্ণ তোয়াক্কা না করে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো প্রকার বৈধ অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধভাবে এক বিশালাকার গরুর হাট বসানোর অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক শ্রেণির সুযোগসন্ধানী প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র সরকারি নির্দেশনার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নিজেদের ব্যক্তিগত মুনাফা ও আধিপত্য বজায় রাখতে শনিবার দুপুর থেকে এই অবৈধ হাটের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য দাপ্তরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা তথা কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সরকারি খাস আদায়ের নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে সমান্তরাল হাট বসানোর ঘটনায় স্থানীয় বৈধ ব্যবসায়ী, প্রকৃত সাধারণ মানুষ এবং রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
থানায় পৌঁছানো প্রাথমিক নথির বিবরণ এবং স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, হৈবতপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. বিল্লাল হোসেন এবং স্থানীয় যুবদলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকর্মী নিজেদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে এই অবৈধ গরুর হাটটি বসিয়েছেন। স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বিস্তারিত তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, সাতমাইল হাট এলাকায় ঐতিহ্যগত ও নিয়ম অনুযায়ী পশুর সাপ্তাহিক হাট সাধারণত প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বসে থাকে। তবে চলতি নতুন বাংলা সনে (১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) এই হাটের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ইজারাদার বা ঠিকাদার নিযুক্ত না থাকায়, স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস সরাসরি তদারকি ও খাস আদায়ের (টোল আদায়) মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা করে হাট পরিচালনা করে আসছিল। কিন্তু সরকারি সেই নির্ধারিত দিনের তোয়াক্কা না করে এবং সংশ্লিষ্ট কোনো রেভিনিউ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া সম্পূর্ণ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শনিবার এই অতিরিক্ত হাট বসানো হয়েছে।
এই স্পর্শকাতর ও অবৈধ পশুর হাট পরিচালনার বিষয়ে জানতে চাইলে সাতমাইল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হাসান সংবাদমাধ্যমের সামনে দাপ্তরিক সত্যতা নিশ্চিত করে স্পষ্ট ভাষায় জানান, “শনিবার সাতমাইল বাজারে এই ধরনের কোনো পশুর হাট বসানোর ক্ষেত্রে আমাদের ভূমি অফিস কিংবা জেলা-উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নূন্যতম কোনো বৈধানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং সরকারি সম্পত্তি ও রাজস্ব আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা অলরেডি এই অবৈধভাবে হাট পরিচালনার পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে লিখিত ও মৌখিকভাবে যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় থানা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।”
এদিকে স্থানীয় হাটের ভেতর থেকে পাওয়া বিশ্বস্ত অনুসন্ধানী তথ্যে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাবেক মেম্বার বিল্লাল হোসেন ও যুবদল সিন্ডিকেটের পরিকল্পনা আরও সুদূরপ্রসারী। তারা এই অবৈধ হাটটিকে সাময়িক সময়ের জন্য নয়, বরং আসন্ন কোরবানি ঈদকে টার্গেট করে আগামী ২৮ মে পর্যন্ত টানা কয়েকদিন অনবরত চালিয়ে নেওয়ার একটি গোপন ও চূড়ান্ত মহাপরিকল্পনা সাজিয়েছেন, যাতে করে লাখ লাখ টাকার অবৈধ চাঁদা ও হাসিল নিজেদের পকেটে পুরতে পারেন। তবে নির্ধারিত দিনের বাইরে হঠাৎ করে বিশাল এই পশুর হাট বসানো এবং দূরদূরান্ত থেকে ট্রাকযোগে শত শত গরু-মহিষের সমাগম ঘটায় ঢাকা-যশোর মহাসড়কের এই অংশে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলেও, বর্তমানে ওই এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে খতিয়ে দেখছে এবং যেকোনো মুহূর্তে সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে এবং অবৈধ টোল আদায় বন্ধে একটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) বা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে বলে নির্ভরযোগ্য প্রশাসনিক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। ফাইল ছবি।


