স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ফরিদপুর সদর উপজেলায় বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা ও মুখ দিয়ে বিষাক্ত ফেনা বের হওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাকে সুকৌশলে অপহরণের পর মুক্তিপণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেছিল দুর্বৃত্তরা। সেই টাকা না দেওয়ায় তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) সকাল সাতটার দিকে সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের রোকমান খার ডাঙ্গী গ্রামের একটি পাটখেত থেকে ওই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইউসুফ ফকির (৪৫) ওই গ্রামের সেকেন ফকিরের ছেলে। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক এবং পেশায় একজন পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউসুফ ফকিরের শরীর কিছুটা অসুস্থ বোধ করায় তিনি ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানোর উদ্দেশ্যে মমিনখার হাট বাজারের একটি ডিসপেনসারিতে যান। বাজারের কাজ শেষে সন্ধ্যার দিকে একটি ইজিবাইকে করে তিনি নিজ বাড়ির সামনে এসে নামেন। এরপর থেকেই মূলত তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন।
নিহতের শ্বশুর আজিজ খান জানান, যে ইজিবাইকে করে ইউসুফ ফিরেছিলেন, সেই চালক নিশ্চিত করেছেন যে তিনি ইউসুফকে বাড়ির সামনেই নামিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকবার তার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি প্রতিবারই ফোন কেটে দেন এবং রাত নয়টার পর থেকে ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইউসুফের ভাতিজা সাইফুল ফকির ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আজিজ খান আরও অভিযোগ করেন, গতকাল শুক্রবার বিকেলে নিখোঁজ ইউসুফের নিজস্ব মুঠোফোন নম্বর থেকেই তার মেয়ের নম্বরে একটি কল আসে। ওপাশ থেকে অজ্ঞাত অপহরণকারীরা ইউসুফকে অক্ষত অবস্থায় মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে নগদ ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলী মদ্দীন ফকির জানান, আজ শনিবার ভোর ছয়টার দিকে কয়েকজন কৃষক ওই এলাকায় পাট কাটতে যান। এ সময় ইউসুফের বাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরের একটি পাটখেতে তার হাত-পা বাঁধা নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা চিৎকার করেন। মরদেহের মুখ দিয়ে কীটনাশকের বিষাক্ত ফেনা বের হচ্ছিল এবং লাশের ঠিক পাশেই একটি কীটনাশকের বোতল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান,“খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত চক্রটিকে শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”ছবি সংগৃহীত।


