স্ত্রী হত্যাকারী সুজনকে লক্ষ্য করে ক্ষুব্ধ জনতার ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ

স্ত্রী হত্যাকারী সুজনকে লক্ষ্য করে ক্ষুব্ধ জনতার ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায় পারিবারিক কলহ ও নেশার টাকার জেরে গৃহবধূ ছামিনা আক্তার ওরফে সাম্মিকে (২৪) নির্মমভাবে ছুরি মেরে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সুজনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আদালত চত্বরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) দুপুরে যশোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও সাধারণ জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামিকে লক্ষ্য করে পচা ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তানিম হোসেন জানান, গত সোমবার ভোরে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর ঘাতক স্বামী সুজন নিজে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে গুরুতর আহত হন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কড়া পুলিশি পাহারায় ভর্তি করে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে সরাসরি যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়।

সুজনকে আদালতে হাজির করার খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ আদালত চত্বরে জড়ো হন। প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর সাথে সাথেই চারপাশ থেকে ‘খুনি সুজনের ফাঁসি চাই’, ‘ছামিনা হত্যার বিচার চাই’ স্লোগানে আদালত পাড়া প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। ক্ষোভের একপর্যায়ে জনতার একাংশ সুজনকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ও ছোটখাটো ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা আসামিকে দ্রুত নিরাপদ কর্ডনে নিয়ে যান এবং বিজ্ঞ আদালত শুনানির পর সুজনকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 এর আগে আদালত প্রাঙ্গণের মূল ফটকে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিহত ছামিনা আক্তারের মা-বাবা বুক ফেটে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের নিষ্পাপ মেয়েটাকে পশুর মতো কুপিয়ে মারা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত চাই। মামলাটি যেন দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে ঘাতক সুজনের ফাঁসি নিশ্চিত করা হয়।” মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শেখহাটি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমাজে এমন নৃশংস অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে অপরাধীদের সাহস আরও বেড়ে যাবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৮ জুন) ভোরে যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় মাদকাসক্ত সুজন তার স্ত্রী ছামিনা আক্তারের কাছে নেশার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে সুজন ঘরে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ছামিনাকে বুক ও পেটে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছামিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *