বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):
উপকূলীয় জনপদ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মালিকানাবিহীন কুকুর, বিড়াল, অবলা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে অনন্য ও দৃষ্টান্তমূলক অবদান রাখায় কলাপাড়া উপজেলার বিজ্ঞ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেককে বিশেষ “প্রাণ সংহতি” সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) দুপুরে কলাপাড়া উপজেলা ভূমি অফিস কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অ্যানিমেল লাভার্স অফ পটুয়াখালী’র কলাপাড়া শাখার সদস্যরা এই সম্মাননা স্মারক হস্তান্তর করেন। এ সময় মানবিক এই সরকারি কর্মকর্তাকে একটি আকর্ষণীয় সম্মাননা ক্রেস্ট ও বিশেষ প্রশংসামূলক সনদপত্র প্রদান করা হয়।
সংগঠন ও ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়ায় যোগদানের পর থেকেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং অবলা জীবজন্তুর অধিকার ও সুরক্ষায় নানামুখী প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বন্যপ্রাণী পাচার রোধ ও শিকারে কড়া আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কলাপাড়ার বেওয়ারিশ কুকুর-বিড়াল ও বন্যপ্রাণীদের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ সর্বমহলে সমাদৃত হয়েছে।
আজ সম্মাননা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন ‘অ্যানিমেল লাভার্স অফ পটুয়াখালী’র কলাপাড়া শাখার দক্ষ টিম লিডার বায়েজিদ মুন্সী, অন্যতম সক্রিয় সদস্য আল মনজির, সদস্য মাসুদ হাসান ও কাউছারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ‘অ্যানিমেল লাভার্স অফ পটুয়াখালী’র কলাপাড়া শাখার টিম লিডার বায়েজিদ মুন্সী গণমাধ্যমকে বলেন, “মাননীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক স্যার কলাপাড়ায় সরকারি দায়িত্বে যোগদান করার পর থেকেই বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি গভীর সহানুভূতি ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন। অবলা প্রাণীদের সুরক্ষায় তাঁর নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ ও কৃতিত্ব আমাদের মতো তরুণ পরিবেশকর্মীদের মাঝে আজীবন স্মরণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ী হয়ে থাকবে।”
ব্যতিক্রমী এই সম্মাননা পেয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক। তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত জীবনে একদম ছোটবেলা থেকেই আমার পশুপাখি, জীবজন্তু এবং গাছপালার প্রতি এক ধরণের অকৃত্রিম টান রয়েছে। তবে আজ আমাকে যে সম্মাননা দেওয়া হলো, তার সমস্ত কৃতিত্ব আমি এনিমেল লাভার্স অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার ত্যাগী সদস্যদের উৎসর্গ করছি। কারণ, অবলা প্রাণীদের বিপদে তাদের নিঃস্বার্থ ও চাক্ষুষ ছুটে যাওয়াই আমাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত (মোটিভেটেড) করেছে।”
আগামীর স্বপ্নের কথা জানিয়ে এই মানবিক সরকারি কর্মকর্তা আরও বলেন, “আজকের এই সম্মাননা প্রাপ্তির পর আমি মনে করি প্রকৃতির প্রতি আমার নাগরিক ও পেশাগত দায়িত্ব আরও অনেক বেড়ে গেল। আমাদের কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে প্রতিনিয়ত অনেক সামুদ্রিক ও দেশীয় বন্যপ্রাণীর সমাগম ঘটে। তাই অবলা জীবজন্তু সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কুয়াকাটায় একটি দৃষ্টিনন্দন ও শিক্ষণীয় ‘অ্যানিমেল মিউজিয়াম’ তৈরি করার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আমার রয়েছে, যা বাস্তবায়নে আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করি।” ছবি সংগৃহীত।

