স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা গণমাধ্যমে প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভিডিও অপসারণের চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিজের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চেয়ে যশোর কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. তারিক হাসান (বিপুল)। দায়েরকৃত জিডি নম্বর- ৫৩৯।
থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৫ জুন রাতে যশোরের কেন্দ্রবিন্দু দড়াটানা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী রিকশা ও প্রাইভেটকারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক মো. তারিক হাসান বিপুল পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন এবং তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
পরদিন ৬ জুন (শনিবার) বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩৬ মিনিটে একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে সাংবাদিক বিপুলের ফোনে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি প্রকাশিত ভিডিওটি অবিলম্বে ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলার (ডিলিট) জন্য তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। সাংবাদিক বিপুল ভিডিও সরাতে অস্বীকৃতি জানালে ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে ভিডিও অপসারণ না করলে তাকে বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতি করা এবং রাজপথে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ফোন কেটে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও তাঁর পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক মো. তারিক হাসান (বিপুল) বলেন, “তথ্য বা সংবাদ প্রকাশ করা একজন গণমাধ্যমকর্মীর পেশাগত দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি এভাবে প্রাণনাশের হুমকি পেতে হয়, তবে তা ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর একটি বড় আঘাত। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
যশোর কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, সাংবাদিককে হুমকির বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত করা হয়েছে। হুমকিদাতার মোবাইল নম্বরটি ট্র্যাক করে তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও আইনগত প্রতিকার নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছে। ছবি সংগৃহীত।


