স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
পাওনা টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ঘরের জানালা-দরজা লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছেন বেনাপোলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন। একই সাথে এই সশস্ত্র হামলার সাথে জড়িত মূল হোতাসহ আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। আজ রবিবার (৭জুন ২০২৬) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান। ভুক্তভোগী সোহাগ হোসেন বেনাপোলের বড়আঁচড়া গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন জানান, গত ৫ জুন রাত ১০টার দিকে তিনি অফিসিয়াল কাজকর্ম শেষ করে বাসায় ফেরেন। এর কিছুক্ষণ পরই ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল তাঁর বাসভবনের সামনে এসে অবস্থান নেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘরের জানালা ও দরজা লক্ষ্য করে উপর্যুপরি কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। হামলাকারীদের ছোড়া একটি গুলি জানালার কাচ ভেঙে সরাসরি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে দেয়ালে আঘাত হানে এবং আরও কয়েকটি গুলি ঘরের বিভিন্ন অংশে লাগে। ওই সময় ঘরে অবস্থান করলেও আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।
গুলির শব্দে স্থানীয় প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে এবং গুলির খোসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে।
পাওনা টাকার জেরে এই হামলা দাবি করে সোহাগ হোসেন জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একই এলাকার আবু সাঈদ (সাইদুর রহমান সাইদ) নামের এক ব্যক্তির কাছে তিনি ব্যবসায়িক সূত্রে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা পান। দীর্ঘদিন ধরে ওই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও সাঈদ তা না দিয়ে ঘোরাতে থাকেন। সর্বশেষ পাওনা টাকা আত্মসাৎ করতে এবং তাঁকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে আবু সাঈদসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১২/১৩ জনকে আসামি করে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হামলার পর থেকে আমি, আমার স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। পুনরায় হামলার আশঙ্কায় ঘরের বাইরে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছি না।” তিনি অবিলম্বে মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য জেলা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলন চলাকালে ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেনের পাশে তাঁর দুই ভাই রফিকুল ইসলাম ও আইয়ুব হোসেন উপস্থিত ছিলেন।ছবি সংগৃহীত।

