স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামে সম্পূর্ণ নোংরা, অবৈজ্ঞানিক ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে একটি আবাসিক বাড়ির ভেতর গড়ে উঠেছে ‘রিয়াদ ফুড’ নামক একটি বেকারি। কোনো প্রকার ল্যাব টেস্ট ছাড়াই এখানে তৈরি করা হচ্ছে হরেক রকমের বেকারি খাদ্যপণ্য, যা বাজারে দেদারছে বিক্রি হওয়ায় প্রতিনিয়ত মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন শিশুসহ অঞ্চলের হাজারও সাধারণ মানুষ।
তথ্য-অনুসন্ধানে গত সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শার্শার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর বড়কলনির মোড়ের পাশে একটি আবাসিক বাসা বাড়ির ভেতরে গোপনে চলছে ‘রিয়াদ ফুড’ বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম। কারখানার ভেতরে ঢুকে দেখা যায় অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে বিস্কুট, রুটি ও কেকসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্য তৈরি করা হচ্ছে।
খাদ্যপণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকারক নিষিদ্ধ কেমিক্যাল, টেক্সটাইল রঙ এবং নিম্নমানের পাম তেল। কারখানার শ্রমিকরা কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি বা বিশেষ পোশাক ছাড়াই খালি পায়ে নোংরা মেঝেতে হেঁটে হেঁটে খাবার তৈরি করছেন। যে সকল বড় কড়াইতে আটা-ময়দা প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে, সেগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় কালো ময়লার আস্তরণ পড়ে গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে ডালডা দিয়ে তৈরি করা ক্রিমের পাত্রগুলোতে; কোনো ঢাকনা না থাকায় পাত্রগুলোর ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি ভনভন করছে। উৎপাদিত এসব বনরুটি, পাউরুটি, কেক ও বিস্কুটের মোড়কে কোনো উৎপাদন কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছাড়াই তা স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূলত প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতেই একটি নিরিবিলি আবাসিক বাসা ভাড়া নিয়ে এই অবৈধ বেকারি ব্যবসা চালানো হচ্ছে।
খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভেজাল কেমিক্যাল, নিষিদ্ধ রঙ ও নিম্নমানের পাম তেল বা ডালডা দিয়ে তৈরি করা এসব খাবার নিয়মিত খেলে মানুষের লিভার, কিডনি বিকলসহ ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে মানহীন খাবার তৈরি ও বাজারজাতকরণের বিষয়ে রিয়াদ ফুডের মালিক মো. খোকনের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করেন। তিনি সদম্ভে বলেন, “আমি ছোট ব্যবসায়ী, আমার পক্ষে সব আইন-কানুন মেনে চলা সম্ভব না। আপনারা বড় বড় কারখানায় গিয়ে দেখুন, সেখানে পরিবেশ আমার চেয়েও খারাপ।” একপর্যায়ে নিউজ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি উপস্থিত সংবাদকর্মীদের নগদ টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার অপচেষ্টাও চালান।
এই বিষয়ে শার্শা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শেফালী খাতুন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া কিংবা কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যদি এভাবে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে খাদ্যপণ্য তৈরি করে, তবে ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণ করার অপরাধে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”ছবি সংগৃহীত।

