মোঃ মাসুদ রানা(কালীগঞ্জ)ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একই দিনে দুই দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক পল্লী চিকিৎসক, তার বড় ভাই এবং তিন কন্যাসহ একই পরিবারের পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মনোহরপুর গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, তার ছোট ভাই মো. কবির হোসেন পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। গত ২৮ জুন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে মনোহরপুর বাজারে রেজাউলের চায়ের দোকানের সামনে বসে থাকা অবস্থায় পূর্ববিরোধের জেরে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত সোহাগ রামদা দিয়ে কবির হোসেনের মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে প্রতিহত করেন। এতে তার ডান হাত গুরুতর আহত হয়। পরে কেরামত আলী ও উলাদ হোসেন লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় সাদ্দাম হোসেন একটি সাইকেল ভাঙচুর করেন এবং সামছুর রহমান ওষুধভর্তি ব্যাগে আগুন দিয়ে প্রায় ৯ হাজার টাকার ক্ষতি করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়রা আহত কবির হোসেনকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আহত ভাইকে দেখে বাড়ি ফেরার পথে কুদ্দুস মাস্টারের পুকুরপাড় এলাকায় আব্দুর রাজ্জাক ও তার তিন কন্যার ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আব্দুর রাজ্জাকের মাথায় লোহার রডের আঘাতে গুরুতর জখম হয় এবং তার মাথায় আটটি সেলাই দিতে হয়েছে। হামলায় তার তিন কন্যা প্রিয়া, পাপিয়া ও পূর্ণিমাও আহত হন।
স্বজনদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন থাকায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে মনোহরপুর গ্রামের সামছুর রহমান, কেরামত আলী, উলাদ হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, জাহাঙ্গীর এবং ছোট পুকুরিয়া গ্রামের সোহাগ ও আলমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।


