যশোরে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত

যশোরে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোর জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন আরও ১১ জন। স্বস্তির বিষয় হলো, এই সময়ে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। আজ রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এই সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যশোরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ১৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, এই চিকিৎসাধীন ১৭ জন রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪ জনই ভর্তি আছেন অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকি ৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অন্যদিকে, যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ চৌগাছা, ঝিকরগাছা, কেশবপুর, মণিরামপুর এবং শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে নতুন বা পুরাতন কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগের সরবরাহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ৫ জুলাই পর্যন্ত যশোর জেলায় সর্বমোট ১৬২ জন ডেঙ্গু রোগী অফিশিয়ালি শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা সেবা পেয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন ১৪৪ জন। এছাড়া ১ জন রোগীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে অন্য হাসপাতালে রেফার (স্থানান্তর) করা হয়েছিল। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত যশোর জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কোনো নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।

যশোরের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় এডিস মশার লার্ভা ও প্রজনন বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলার প্রতিটি হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার সচল রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসার ওষুধ ও স্যালাইন মজুত রাখা হয়েছে। একই সাথে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন জেলার জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকেরা।ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *