যশোরে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ!

যশোরে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ!

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার জয়নগর জামতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই বর্বরোচিত অপরাধের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাই বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর পরই পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার মূল হোতা ও প্রধান অভিযুক্ত বখাটে সমীরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। আজ রোববার (৫ জুলাই) মণিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

মামলার এজাহার, ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে স্থানীয় কয়েকজন বখাটে যুবকের দ্বারা উত্ত্যক্ত ও ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছিল। গত শনিবার (৪ জুলাই) সকালে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে জয়নগর জামতলা এলাকায় পৌঁছালে রাস্তা জনশূন্য ও তাকে একা পেয়ে ওত পেতে থাকা স্থানীয় বখাটে যুবক সমীরসহ তার ৩-৪ জন সহযোগী ওই ছাত্রীর গতি রোধ করে। এ সময় মেয়েটির মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক অপহরণ করে কাছের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবরুদ্ধ করে বখাটে সমীর ওই স্কুলছাত্রীকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে বখাটেরা পালিয়ে গেলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কোনোমতে বাড়ি ফিরে আসে এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।

ঘটনার শিকার ছাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এবং পুরো বিষয়টি জানার পর তার ভাই দ্রুত মণিরামপুর থানায় গিয়ে আইনি সহায়তার আবেদন করেন। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি আমলে নেয় এবং থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল জয়নগর এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সমীরকে তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অপরাধের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং এই ঘটনার সাথে আর কারা জড়িত তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানার জন্য ধৃত আসামি সমীরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, গুরুতর লাঞ্ছিত ও ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ডাক্তারি (মেডিকেল) পরীক্ষার জন্য দ্রুত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেয়েটির সুরতহাল ও ধর্ষণের প্রাথমিক আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর তা মামলার নথিতে যুক্ত করা হবে এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ আরও জোরালো হবে। মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, “শিক্ষার্থীর ওপর এমন পাশবিক অপরাধ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে এবং মূল আসামিকে আমরা ইতিমধ্যে আইনের আওতায় এনেছি। এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের কয়েকটি বিশেষ টিম নিখুঁতভাবে মাঠে কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।” এই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকে পুরো মণিরামপুর উপজেলাজুড়ে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ এবং বখাটেদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *