স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে রুবেল হোসেন (৩৮) নামে জাতীয়তাবাদী যুবদলের এক নেতাকে প্রকাশ্য দিবালোকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে উপজেলার খাজুরা তেল পাম্পের পাশে অবস্থিত গাড়ি মাপার স্কেলের সামনে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
নিহত রুবেল হোসেন বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দভিলা ইউনিয়ন যুবদলের সম্মানিত যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি উপজেলার তেলি ধান্যপোড়া এলাকার খাজুরা তেল পাম্প সংলগ্ন গ্রামের মৃত মুনতাজ ঢালীর সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহত রুবেল হোসেনের সাথে একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রবের ছেলে রাব্বির (২৬) দীর্ঘ দিন ধরে গভীর পূর্ব শত্রুতা ও বিরোধ চলছিল। আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রুবেল হোসেন খাজুরা তেল পাম্পের পাশে গাড়ি মাপার স্কেলের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ওত পেতে থাকা ঘাতক রাব্বি ধারালো ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হঠাৎ তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাব্বি রুবেল হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও জখম করে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে রুবেলের চিৎকার ও আশপাশের মানুষের শোরগোলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাঁকে মুমূর্ষু ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রুবেলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে নিহত যুবদল নেতার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বন্দভিলা ইউনিয়ন ও তেলি ধান্যপোড়া গ্রামে চরম উত্তেজনা ও শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে যশোরের বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি। ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত রাব্বি পলাতক রয়েছে। তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠপর্যায়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”ছবি সংগৃহীত।

