স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একই বাড়িতে বসবাস করার সুবাদে নিঃসন্তান এক বৃদ্ধ দম্পতিকে ধারালো ছুরির মুখে জিম্মি করে জমি বিক্রির গচ্ছিত নগদ ৩২ লাখ টাকা ও ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটের এক লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। আপন আত্মীয়দের দ্বারা সংঘটিত এই জঘন্য দস্যুতার ঘটনার প্রায় তিন মাস পর অত্যন্ত নিখুঁত ও প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে এর মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নওগাঁ জেলা শাখা।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পিবিআই দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী ও হোতা বিজ্ঞ আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পোরশা উপজেলার বাসিন্দা গোলাম সারোয়ার এবং তাঁর ছেলে ফজলে আহমেদ। ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ফজলে আহমেদের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার, পিবিআই-এর তদন্ত ও আসামির জবানবন্দি পর্যালোচনা করে জানা যায়, ভুক্তভোগী নিঃসন্তান বৃদ্ধ দম্পতির বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও নিঃসঙ্গতার কথা বিবেচনা করে তাদের দেখাশোনার উদ্দেশ্যে আপন আত্মীয় ফজলে আহমেদ ও তার স্ত্রী ফাতেমা খাতুনকে ওই বাড়ির দোতলায় থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একই ছাদের নিচে থাকার সুবাদে বৃদ্ধ দম্পতির জমি বিক্রির বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ঘরে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয় এই লোভী দম্পতি।
গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ফজলে আহমেদ ও ফাতেমা খাতুন বৃদ্ধ দম্পতির শোবার কক্ষে প্রবেশ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা বৃদ্ধ দম্পতির গলায় ধারালো ছুরি ঠেকিয়ে এবং মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে ফেলে। পরবর্তীতে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে লকার থেকে জমি বিক্রির গচ্ছিত নগদ ৩২ লাখ টাকা এবং মায়ের স্মৃতিবিজড়িত ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে রাতারাতি বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ভুক্তভোগী আমেনা বেগম বাদী হয়ে ফজলে আহমেদ, গোলাম সারোয়ার এবং ফাতেমা খাতুনকে আসামি করে নওগাঁ আদালতে একটি এজাহার দায়ের করেন। আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় পোরশা থানায় দণ্ডবিধির ৩৯২/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় একটি নিয়মিত দস্যুতার মামলা (মামলা নং-০২, তারিখ: ০৪/০৭/২০২৬ খ্রি.) রুজু করা হয় এবং দ্রুত মামলার তদন্তভার পিবিআই নওগাঁর নিকট হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে পিবিআই-এর চৌকস পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ আসাদুজ্জামান মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে মাঠপর্যায়ে নামেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও নিজস্ব সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১২ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বেলা ২টা ৪০ মিনিটে নওগাঁ সদর থানার বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে পলাতক আসামি ফজলে আহমেদ ও তার পিতা গোলাম সারোয়ারকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
গ্রেফতারের পর পিবিআই কার্যালয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফজলে আহমেদ ঘটনার সত্যতা সম্পূর্ণ স্বীকার করে। পরবর্তীতে আজ তাকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে সে নিজের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এক চাঞ্চল্যকর ও জবানবন্দি প্রদান করে।
মামলার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পিবিআই নওগাঁ জেলা কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটিত হলেও লুণ্ঠিত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার সম্পূর্ণ উদ্ধার এবং এই দস্যুতার সাথে সরাসরি জড়িত অপর পলাতক নারী আসামি ফাতেমা খাতুনকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের চিরুনি অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চলমান রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

