মোঃ মাসুদ রানা,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় সমাজকে মাদকমুক্ত করার সামাজিক আন্দোলনের জের ধরে এক অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) ও তাঁর পুরো পরিবারের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নির্মম ও বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে স্থানীয় একদল দুর্ধর্ষ মাদক কারবারি চক্র। মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা বাড়িতে ঢুকে ওই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার মাথায় রামদা দিয়ে কোপানোর পাশাপাশি তাঁর অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ, স্ত্রী ও কন্যাসহ পরিবারের ৬ সদস্যকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওর্য়াডের আড়পাড়া দরগার পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলের দায়ের করা মামলায় রাতেই অভিযান চালিয়ে দুই এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ আড়পাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা তথা অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন এবং তাঁর ছেলে মো. আশরাফুল আলম রানা দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে যুবসমাজকে সচেতন করা এবং মাদক কেনাবেচার বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। এতে ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিরা তাঁদের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন সময়ে তাঁদের পথরোধ করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি, কাঠের বাটাম ও ধারালো রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল সন্ত্রাসী আনোয়ার হোসেনের বসতবাড়িতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে নারকীয় তাণ্ডব শুরু করে। সন্ত্রাসীরা প্রথমে তাঁকে গালিগালাজ করে এবং একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো রামদা দিয়ে তাঁর মাথায় সজোরে কোপ মারে, এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পিতা আনোয়ার হোসেনকে বাঁচাতে এ সময় পরিবারের সদস্যরা ছুটে এলে হামলাকারীরা রানার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মারুফা আক্তার মিতু, মা আশাতারা পারভীন, বোন হীরা খাতুন এবং দুই আত্মীয় নাজমা বেগম ও সালমা বেগমকে কাঠের বাটাম ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। বিদায় নেওয়ার আগে মাদক কারবারিরা পুরো ঘরে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে আলমারি, আসবাবপত্র ভেঙে প্রায় ৮০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করে এবং ভবিষ্যতে পুরো পরিবারকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে প্রতিবেশীরা এসে রক্তাক্ত অবস্থায় সাবেক এএসপি আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই পৈশাচিক হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটির পক্ষ থেকে মো. রিপন, মো. শিবলু, মো. মিলন হোসেন, নাজমুল হোসেন, নাজমা বেগম ও মো. কাজলসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেনের নির্দেশে পুলিশের একটি চৌকস দল ওই রাতেই সাড়ে ১১টার দিকে দরগার পশ্চিমপাড়া এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম দুই আসামি মো. শিবলু ও মো. মিলন হোসেনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ওসি জেল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, একজন বীর পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের ওপর মাদকের স্বপক্ষে এমন হামলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না; গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি পলাতক আসামিদের ধরতে ডিবির সহায়তায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

