মোঃ মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়া সত্ত্বেও ঝিনাইদহ জেলা শহর দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ রেল যোগাযোগ এবং উন্নত আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে চরমভাবে বঞ্চিত। এই দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূরীকরণ এবং ঝিনাইদহ জেলা শহরের একদম পাশ দিয়ে রেললাইন ও জেলা সদরেই পূর্ণাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবিতে এক বিশাল ও স্বতঃস্ফূর্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ ২০ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ শনিবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের প্রাণকেন্দ্র ঐতিহাসিক পায়রা চত্বরে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। নাগরিক অধিকার আদায়ের এই কর্মসূচিতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লেকার্ড হাতে নিয়ে জেলার বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও সচেতন ছাত্রসমাজ অংশ নেন।
শহরের পায়রা চত্বরের প্রধান সড়কে ‘ঝিনাইদহ জেলা রেললাইন ও মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন কমিটি’—এর ব্যানারে এই ব্যতিক্রমী ও অধিকার আদায়ের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
টানা ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বিশাল মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ জেলা রেললাইন ও মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি এনএম শাহজালাল এবং সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান পিন্টু। এছাড়া সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ খন্দকার গিয়াস উদ্দিন ও বাসদ নেতা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানসহ স্থানীয় পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঝিনাইদহ একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা হলেও শুধু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে জেলা শহরটি এখনও রেল নেটওয়ার্কের বাইরে রয়ে গেছে। এর চেয়েও বড় দুঃখের বিষয় হলো, ঝিনাইদহে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা রহস্যজনক কারণে শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত শৈলকুপা উপজেলায় করার পাঁয়তারা চলছে। যদি জেলা শহর ছেড়ে শৈলকুপায় মেডিকেল কলেজ করা হয়, তবে জেলার বাকি ৫টি উপজেলার (সদর, হরিণাকুণ্ডু, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর) লাখ লাখ সাধারণ মানুষকে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চরম ভোগান্তি ও অর্থ ব্যয়ের শিকার হতে হবে। এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই ঝিনাইদহের মানুষ মেনে নেবে না।”
বক্তারা জোর দাবি জানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও ব্যয়ের কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে শৈলকুপার পরিবর্তে ঝিনাইদহ জেলা শহরের সুবিধাজনক স্থানেই মেডিকেল কলেজ স্থাপন করতে হবে এবং একই সাথে জেলা শহরের পাশ দিয়ে রেললাইনের সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। মানববন্ধনের সমাপনী বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঝিনাইদহবাসীর এই ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি যদি অনতিবিলম্বে মেনে নেওয়া না হয়, তবে আগামীতে হরতাল, অবরোধ ও চাকা বন্ধের মতো আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।


