স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার ও আঞ্চলিক প্রভাব প্রতিপত্তি খাটানোকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে ভয়াবহ বোমা (ককটেল) হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ইউনিয়নের খোলাডাঙ্গা গাজীপাড়া এলাকায় এই দুর্ধর্ষ হামলার ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই বোমাবাজি ও বিস্ফোরণের বিকট শব্দে পুরো এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে অলৌকিকভাবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহরের খোলাডাঙ্গা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে স্থানীয় ‘শামীম গ্রুপ’ এবং ‘রোড বাচ্চু গ্রুপ’-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চরম বিরোধ ও উত্তেজনা চলে আসছিল। এই পুরোনো শত্রুতার জের ধরেই সোমবার মধ্যরাতে শামীমের গাজীপাড়ার বাসভবনকে টার্গেট করে প্রতিপক্ষ গ্রুপটি এই সশস্ত্র হামলা চালায় বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে প্রকাশ, সোমবার রাতে রোড বাচ্চু, মেহেদী, অন্তর, কুটি, শাওন, বিপ্লব ও রাকিবসহ অন্তত ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সুসংগঠিত সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শামীমের বাড়ির চারপাশ অবরুদ্ধ করে ফেলে। এরপর তারা বাড়িটিকে লক্ষ্য করে এবং আশপাশের রাস্তায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে একের পর এক বেশ কয়েকটি ককটেল ও বোমাসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটায়। মধ্যরাতে একের পর এক বোমার বিকট আওয়াজে ঘুমন্ত এলাকাবাসী চরম আতঙ্কে জেগে ওঠেন এবং পুরো এলাকায় দিগিবিদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। সন্ত্রাসীরা বীরদর্পে বোমাবাজি করে বীরত্ব দেখিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং স্পট থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত সংগ্রহ করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান গণমাধ্যমকে বলেন, “আরবপুরের খোলাডাঙ্গায় আধিপত্যের জেরে একটি বাড়িতে বোমাবাজির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। জড়িত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
এদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে বা মধ্যরাতে এমন বোমাবাজির ঘটনায় সাধারণ ও নিরীহ এলাকাবাসীর মনে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, এই চিহ্নিত গ্যাং বা কিশোর গ্যাং কালচারের পৃষ্ঠপোষকদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে খোলাডাঙ্গা এলাকাকে সন্ত্রাসমুক্ত ঘোষণা করতে হবে। ছবি সংগৃহীত।

