স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের সদর উপজেলা, বাঘারপাড়া এবং শহরের শেখহাটি এলাকায় পৃথক পৃথক মাদকবিরোধী ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে জেলাজুড়ে আলোচিত মাদক কারবারি মঈদুল্লাহ ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার (১৫ জুন) বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পৃথক এই অভিযানগুলো চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ আমদানিনিষিদ্ধ ভারতীয় ‘উইনকরেক্স’ (ফেন্সিডিলের বিকল্প সিরাপ) এবং ১৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত মঈদুল্লাহর পরিবারের দাবি—ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে র্যাব-৬ যশোরের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নে মঈদুল্লাহ ইসলামের মালিকানাধীন ‘বেস্ট ব্রেড অ্যান্ড বেকারি’ কারখানা, অফিস ও তাঁর বসতবাড়িতে একযোগে ঘেরাও করে অভিযান চালায়।
সিভিল পোশাকে থাকা র্যাব সদস্যরা কারখানায় দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি পরিচালনা করেন। তল্লাশির একপর্যায়ে কারখানার ভেতর থাকা জেনারেটর কক্ষের গোপন স্থান থেকে ২৯ বোতল নিষিদ্ধ উইনকরেক্স সিরাপ উদ্ধার করা হয়। পরে মঈদুল্লাহকে আটক করে র্যাব ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এদিকে গ্রেপ্তারের পর মঈদুল্লাহর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযানের সত্যতা নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, মঈদুল্লাহ বহু বছর আগেই মাদকের অন্ধকার জগৎ ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফিরেছেন এবং বৈধভাবে বেকারি ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সম্প্রতি র্যাবের একজন সদস্যের সাথে মঈদুল্লাহর তীব্র ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই আক্রোশের জেরে কারখানার সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর বা আড়াল করে বাইরে থেকে মাদক এনে জেনারেটর রুমে রেখে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। কারখানার সিসিটিভি ফুটেজ নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত সত্য ও র্যাবের কতিপয় সদস্যের অতিউৎসাহী ভূমিকা পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে তাঁরা দাবি করেন।
এ বিষয়ে র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার এটিএম ফজলে রাব্বি প্রিন্স বলেন, “মঈদুল্লাহ এই অঞ্চলের একজন তালিকাভুক্ত ও আলোচিত মাদক সম্রাট। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন থানায় অন্তত ৯টি মামলা রয়েছে, যার বেশিরভাগই মাদকসংক্রান্ত। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে ২৯ বোতল উইনকরেক্স উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক আইনে নতুন মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে ফাঁসানোর যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটিও আমরা অভ্যন্তরীণভাবে খতিয়ে দেখব।”
বাঘারপাড়া ও শেখহাটিতে ডিবি-পুলিশের অ্যাকশন
অন্যদিকে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বাঘারপাড়া থানা পুলিশ পৃথক দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। বাঘারপাড়া থানা পুলিশের একটি দল সোমবার বিকেলে উপজেলার বাগডাঙ্গা বৈরাগীপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় চিহ্নিত মাদক কারবারি কাওসার গাজীর বসতবাড়ির গোয়ালঘরে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১০১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ কাওসারকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। কাওসার ওই এলাকার মৃত সুফিয়ার গাজীর ছেলে।
এছাড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল সোমবার বিকেলে যশোর শহরের শেখহাটি হাইকোর্ট মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে একটি নির্মাণাধীন ভবনের সামনে মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে ওত পেতে থাকা অবস্থায় ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এনামুল হক রিপন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। রিপন শেখহাটি এলাকার মৃত একরামুল হক মন্টুর ছেলে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামির বিরুদ্ধেই সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর ধারায় পৃথক পৃথক মামলা দায়ের শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে যশোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদকের অভয়ারণ্য রুখতে এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।

