বাঘারপাড়ার বন্দবিলা দুর্গা মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরি: গ্রিলের তালা ভেঙে মালামাল লুট

বাঘারপাড়ার বন্দবিলা দুর্গা মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরি: গ্রিলের তালা ভেঙে মালামাল লুট

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা গ্রামে একটি ঐতিহ্যবাহী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্র মন্দিরের প্রধান ফটকের গ্রিলের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যান, কম্পিউটারসহ পূজার মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে। এই চুরির ঘটনায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সূত্রে জানা গেছে, বাঘারপাড়া উপজেলার ২ নম্বর বন্দবিলা ইউনিয়নের বন্দবিলা উত্তরপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে গত শনিবার (২০ জুন) দিবাগত গভীর রাত থেকে রবিবার (২১ জুন) ভোরের মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরের দল এই ঘটনা ঘটায়। চোরেরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মন্দিরের গ্রিলের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এরপর তারা মন্দিরে থাকা ২টি সিলিং ফ্যান, ১টি কম্পিউটার মনিটর, ১টি পিসি (CPU), ১টি সোলার ব্যাটারিসহ নিত্যদিন পূজার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন তামা ও কাঁসার সামগ্রী চুরি করে অনায়াসে চম্পট দেয়।

রবিবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বন্দবিলা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা সুজয় কুমার পাল মাঠে কৃষিকাজে যাওয়ার সময় মন্দিরের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি মন্দিরের মেইন গ্রিলের তালাটি ভাঙা অবস্থায় নিচে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং কম্পিউটারসহ মূল্যবান মালামাল চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন। ধর্মীয় উপাসনালয়ে এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

খবর পেয়ে যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) মো. মুন্না বিশ্বাস এবং স্থানীয় খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই ফিরোজ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ভুক্তভোগী মন্দির কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলেন।

খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পবিত্র ধর্মীয় উপাসনালয়ে চুরির এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু হয়েছে এবং মন্দিরের আশেপাশে থাকা সোর্স ও প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িত চোরদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *