স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বাঘারপাড়া থানা পুলিশের যৌথ এক অভিযানে আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ গাড়ি চোর চক্রের ৪ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া একটি মিনি ড্রাম ট্রাক, ট্রাকের বিভিন্ন কেটে ফেলা অংশ বিশেষ এবং একটি মাহিন্দ্রা পিকআপ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৩ জন ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
পুলিশ ও ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (৭ জুন ২০২৬) যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানাধীন খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের এসআই (নি.) ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম খাজুরা তেল পাম্পের সামনে অবস্থান করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন, একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গাড়ি চুরি করে এনে তেলিধান্যপুরা গ্রামস্থ দিশা স্কুলের সামনে, মাগুরা হাইওয়ে সংলগ্ন জনৈক সিরাজুল ইসলামের ফার্ম হাউজের প্রাচীরের ভেতরে অবস্থান করছে। সেখানে তারা চুরির আলামত নষ্ট করতে গ্যাসের সাহায্যে বড় ট্রাকের বিভিন্ন অংশ কেটে টুকরো টুকরো করে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার পাঁয়তারা করছে।
এমন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে পুলিশ টিম উক্ত ফার্ম হাউজে আকস্মিক অভিযান চালায়। পোশাকধারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোর চক্রের সদস্যরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে। আটককৃতরা হলেন—মো. জামাল হোসেন (৪১), সেতু তালুকদার (২৮) ও মো. এনামুল (৪৮)।
তল্লাশিকালে উক্ত স্থানে থাকা মিনি ড্রাম ট্রাক ও মাহিন্দ্রা পিকআপের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন তাঁরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেন যে, তাঁরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকসহ দামী গাড়ি চুরি করে এই নিরাপদ ডেরায় নিয়ে আসতেন। এরপর গ্যাসের সিলিন্ডার ও কাটার দিয়ে নিমেষেই গাড়িগুলো কেটে খণ্ড-বিখণ্ড করে শহরের বিভিন্ন ভাঙাড়ি ও পার্টসের দোকানে বিক্রি করে দিতেন।
বাঘারপাড়া থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু হওয়ার পর মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় এর তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যশোরের এসআই (নি.) মো. সালাউদ্দিন খানের ওপর ন্যস্ত করা হয়। ডিবির আভিযানিক দল আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক আসামিদের ধরতে জেলাজুড়ে চিরুনি অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে কোতয়ালী থানা এলাকা থেকে চোর চক্রের অন্যতম প্রধান সহযোগী মো. হামজা (২৫)-কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ডিবি।
আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুরে গ্রেফতারকৃত চার আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় যশোর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতে হাজির করা হলে ধৃত আসামিদের মধ্যে সেতু তালুকদার (২৮), মো. এনামুল (৪৮) এবং মো. হামজা (২৫) জুরির সম্মুখে নিজেদের দোষ স্বীকার করে এবং চক্রের পুরো নেটওয়ার্কের তথ্য ফাঁস করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
আটককৃত ৪ আসামির বাড়িই যশোর কোতয়ালী থানা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে। তাঁরা হলেন: ১. মো. জামাল হোসেন (৪১), পিতা- মৃত ইদ্রিস মিয়া, সাং- বাহাদুরপুর (বর্তমান সাং- ভেকুটিয়া স্কুলপাড়া)। ২. সেতু তালুকদার (২৮), পিতা- মৃত মিলন তালুকদার, সাং- বকচর (হুশতলা)। ৩. মো. এনামুল (৪৮), পিতা- মৃত রজব আলী, সাং- কমলাপুর (দক্ষিণ পাড়া)। ৪. মো. হামজা (২৫), পিতা- হাসান শিকদার, সাং- বকচর (হুশতলা)।
যশোর জেলা পুলিশ ও ডিবি জানায়, এই চক্রের সাথে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতার এবং চোরাই সিন্ডিকেট সম্পূর্ণ নির্মূল করতে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।


