মোঃ মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাবদারপুর পুলিশ ক্যাম্প থেকে হাতকড়াসহ নাটকীয়ভাবে পালিয়ে যাওয়া এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ প্রশাসনের তীব্র তৎপরতায় প্রায় ১০ ঘণ্টার এক রুদ্ধশ্বাস চিরুনি অভিযান চালিয়ে ওই আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম ফরিদ হোসেন (২৮)। তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে। ফরিদ কোটচাঁদপুর থানার একটি নিয়মিত মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ৮টার দিকে সাবদারপুর পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল কুদ্দুস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার ভোমরাডাঙ্গা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে স্থানীয় বাজার সংলগ্ন একটি স্কুলের পেছন থেকে ওত পেতে থাকা ফরিদ হোসেনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। আটকের পর তাঁর হাতে হাতকড়া পরিয়ে সাবদারপুর পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয় এবং তাকে হেফাজতে রাখা হয়।
কিন্তু রাতেই দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এবং ক্যাম্পের অসচেতনতার সুযোগ বুঝে ফরিদ হোসেন হাতকড়াসহ অভিনব কায়দায় পুলিশ ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যান। আসামির পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই পুলিশ ক্যাম্পে ও কোটচাঁদপুর থানায় চরম শোরগোল পড়ে যায় এবং পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
এ বিষয়ে ঘটনার বিস্তারিত ও পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না জানতে সাবদারপুর পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএসআই আব্দুল কুদ্দুসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর সুনির্দিষ্ট মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, “সাবদারপুর ক্যাম্প থেকে হাতকড়াসহ এক আসামি পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা পুরো উপজেলায় কঠোর অ্যালার্ট জারি করি। তাকে পুনরায় গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে।”
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের পর আজ শনিবার (৪ জুলাই) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোটচাঁদপুর উপজেলার ধোপাবেলা গ্রামে ফরিদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে হানা দেওয়া হয়। সেখান থেকে হাতকড়াসহ ফরিদ হোসেনকে পুনরায় গ্রেফতার করতে সমর্থ হয় পুলিশ। আজ দুপুরের দিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে কঠোর পুলিশি পাহারায় আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামির পলায়নের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে বলেও থানা সূত্রে জানা গেছে। ছবি সংগৃহীত।

