ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেফতার!

ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেফতার!

পটুয়াখালী সংবাদদাতা :

স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে পাঠিয়ে তাবিজ দেওয়ার কথা বলে নিজের ফাঁকা ঘরে ডেকে নিয়ে এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক স্থানীয় জামায়াত নেতা ও পল্লী চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) সকালে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে। বাড়ির পাশে তার একটি ফার্মেসির দোকান রয়েছে এবং পেশায় তিনি একজন পল্লী চিকিৎসক।

 ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর স্বামী ও ৯ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তাঁর পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই মানসিক ও পারিবারিক সংকটের সুযোগ নিয়ে পরিচয় হয় পল্লী চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে। এরপর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশায় ওই নারী প্রায়ই মোস্তাফিজুরের কাছে তাবিজ-কবচ নিতে আসতেন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর রহমান সুযোগ বুঝে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে পাঠিয়ে দেন। এরপর সন্ধ্যার দিকে ওই নারীর ভাইয়ের ছেলেকে একটি বিশেষ তাবিজ দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে কৌশলে নিজের জনমানবহীন বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসেন। তারা প্রায় দুই ঘণ্টার মতো ঘরের ভেতরে অবস্থান করার একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর রহমান ওই নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ওই ঘরের ভেতর থেকে নারীর চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পেয়ে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে ঘরটি ঘেরাও করেন এবং পুলিশে খবর দেন। মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোস্তাফিজুর রহমানকে হাতেনাতে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, “বিষয়টি আমাকে এখনও পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে অপরাধের সাথে দলের কোনো আপস নেই; সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে প্রধান আসামি মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *