চাল নিয়ে চেয়ারম্যানের ‘চালবাজি’ !

চাল নিয়ে চেয়ারম্যানের ‘চালবাজি’ !

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া :
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের নামে সামুদ্রিক মাছ শিকারী জেলেদের কাছ থেকে বাধ্যতামুলক ৩০০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যান মজিবর ফকিরের নির্দেশে গ্রাম পুলিশের সদস্যরা এ চাঁদার টাকা আদায় করছেন। তবে এঘটনায় চেয়ারম্যানের ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে রাজি না হলেও একাধিক জেলের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের বাঁধাহীন প্রজননের জন্য ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। নিষেধাজ্ঞা কালীন সময়ে জেলেদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলের নামে ৭৭.৩ কেজি করে চাল বরাদ্ধ করে মৎস্য বিভাগ। ইতিমধ্যে কলাপাড়ার বেশ কিছু ইউনিয়নের চাল বিতরন করা হয়েছে। তবে চাকামাইয়া ইউনিয়নের নিবন্ধিত ৮০৬ জন জেলে এখনও চাল পায়নি। চাল পাওয়ার জন্য প্রত্যেক জেলের কাছে ৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু জেলে ৫০০ থেকে ৩০০ টাকা করে প্রদান করেছেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় এসব চাঁদা তুলছেন ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। তবে অভিযোগ রয়েছে, টাকা প্রদান করার পর রশিদ দিলেও তা ইউনিয়ন পরিষদের রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছেনা।
চাকামাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমার যদি বেশি সম্পদ থাকতো বা বড় ঘর থাকতো তাহলে তো আমি জেলে পেশায় থাকতাম না। আমার ছোট্ট একটি ঘর রয়েছে এবং অল্প কিছু জমি রয়েছে। এর  ট্যাক্স সর্বোচ্চ ১০০ থেকে১২০ টাকা হতে পারে। সেখানে আমার কাছ থেকে রশিদ দিয়ে ৩০০ টাকা নিয়েছে আমাদের চৌকিদার। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অপর এক জেলে বলেন, আমাদের এলাকার চৌকিদার বলেছে চাল পেতে হলে আমাদের প্রত্যেক জেলেদের ৫০০ করে ট্যাক্সের টাকা দিতে হবে। আর যদি টাকা না দেই তাহলে আমাদের চাল দিবেনা। তবে আমরা ট্যাক্সের সরকারী টাকা দিতে রাজি। ট্যাক্স তো আসলে সর্বোচ্চ এক থেকে দেড়শ টাকা হতে পারে। আ,রহমান ৩০০ টাকার ট্যাক্স ভর্তুকি দিয়ে জেলে চাল সিলিপের নিশ্চয়তা পেয়েছেন।দুর্ভোগী একাধিক জেলে  আক্ষেপের সাথে জানান ট্যাক্স রশিদ না কাটলে চাল দেয়া হবেনা। হতদরিদ্র জেলে পরিবারগুলো চাল পাবার নিশ্চয়তায় চাউলের সিলিপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। ইতিপূর্বে চেয়ারম্যান মজিবর ফকির নারী ভিজিডি কার্ডের তালিকাভুক্ত নারীদের চাল দেয়নি  ভিন্ন মতের হবার কারনে।হতদরিদ্র নারীদের পক্ষে মোসা,নাজমা বেগম বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ এখন তদন্তনাধীন রয়েছে। চাকামইয়া ইউনিয়নের ৮০৬ জেলে তালিকা নিয়ে রয়েছে অভিযোগের পাহার। প্রকৃত জেলেদের বন্চিত করে সম্পদশালী ধন্যাঢ্য ব্যক্তি বিশেষের নাম তালিকাভুক্ত হওয়ায় এ ইউনিয়নে চাল বিতরনের সময়ে বহাল তবিয়তে চলে আসছে চাল নিয়ে চাল বাজী।।
চাকামাইয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুবক্কর বলেন, আমরা এখন এই ইউনিয়ন পরিষদে শুধু নামের মেম্বারি করি। সকল কাজ চেয়ারম্যান একা করে। অনেক জেলেদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদের রেজিস্টারে উঠানো হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাকামইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেলেদের চালের বিনিময়ে ট্যাক্স রশিদের মাধ্যমে  কোন টাকা পয়সা নেওয়া হয় না। যাদের ট্যাক্স টাকা দিতে বাকি থাকে তাদের কাছ থেকে রশিদ মাধ্যমে রেজিস্টার মেন্টেন করা হয় ট্যাক্সের টাকা উত্তোলন করা হয়। জেলেদের চাল দিতে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করা এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন জেলে চাল পেতে হলে কোন ট্যাক্স দেয়া লাগে না। বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখবো। তবে নাগরিক হিসাবে সঠিক সময়ে ট্যাক্স পরিষদ করা উচিত। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *