স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের পার্ক বা নির্জন কোণগুলোতে যারা একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে যেতেন, তাদের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠেছিল একটি অসাধু চক্র। গোপনে যুগলদের ছবি তুলে তা পরিবারের কাছে ফাঁসের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এদের মূল পেশা। অবশেষে সেই কুখ্যাত ব্ল্যাকমেইলিং ও ছিনতাই চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করল পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে শহরের হাইপ্রোফাইল এলাকা ‘এসপি বাংলো মোড়’ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
আইন আদালতের মুখোমুখি হওয়া এই দুই অপরাধী হলেন— গোড়াপাড়া অঞ্চলের জালাল উদ্দিনের পুত্র মেহেদী হাসান এবং আরবপুর এলাকার গোলাম মোস্তফার পুত্র জসিম।
পুলিশ জানায়, মেহেদী ও জসিম দীর্ঘদিন ধরে শহরে একটি সংঘবদ্ধ ক্রাইম সিন্ডিকেট চালাচ্ছিল। এদের মূল টার্গেট ছিল নির্জন জায়গায় বসা তরুণ-তরুণীরা। ওত পেতে থেকে ছবি তোলার পর শুরু হতো মানসিক নির্যাতন ও টাকা আদায়ের খেলা। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্পটে চুরি ও ছিনতাইয়ের পেছনেও এই জুটির হাত রয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলে।
এই চক্রের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি শেষমেশ যশোরের পুলিশ সুপারের কান পর্যন্ত পৌঁছায়। তিনি এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে এই গ্যাংটিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেন। ফলশ্রুতিতে, গোপন সোর্সের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ জাল ফেলে এবং আজ দুপুরে এসপি বাংলোর কাছ থেকে তাদের জাপটে ধরা হয়। তল্লাশিকালে তাদের পকেট থেকে উদ্ধার হয় মাদকদ্রব্য গাঁজা।
গ্রেফতারের পরপরই দুজনকে হাজির করা হয় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ উদ্দীনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে। অপরাধের সমস্ত খতিয়ান দেখে আদালত তাৎক্ষণিক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মেহেদী হাসানকে ২ মাসের জেল ও ১০০ টাকা জরিমানা এবং তার সহযোগী জসিমকে ৪৫ দিনের জেলসহ ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। রায় শেষে বুক ফুলিয়ে বেড়ানো এই দুই ব্ল্যাকমেইলারকে সোজাসুজি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

